সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
Sokaler Bangladesh

এক বছরে মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী কমেছে ৪ লাখ, মাদ্রাসায় বেড়েছে ৪৩ হাজার


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

এক বছরে মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী কমেছে ৪ লাখ, মাদ্রাসায় বেড়েছে ৪৩ হাজার

দেশে সাধারণ ধারার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমলেও মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী বাড়ছে। এক বছরের ব্যবধানে দাখিল থেকে কামিল পর্যন্ত শিক্ষা দেওয়া হয়—এমন মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী বেড়েছে ৪৩ হাজারের বেশি। একই সময়ে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলেও শিক্ষার্থী বেড়েছে। তবে সাধারণ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র কারিগরি-ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী কমেছে।


শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান-২০২৫ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের মাদ্রাসা ছিল ৯ হাজার ২৬৯টি। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ২৯৬টি। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ২৭ লাখ ৯৬ হাজারের কিছু বেশি থেকে বেড়ে ২৮ লাখ ৪০ হাজারের বেশি হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে মাদ্রাসা বেড়েছে ২৭টি এবং শিক্ষার্থী বেড়েছে ৪৩ হাজারের বেশি। এ হিসাবে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত নয়।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালে দেশে জুনিয়র স্কুলসহ সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল ১৯ হাজার ১১৭টি। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১৯ হাজার ২১১টি। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ৭৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪৬ জন থেকে কমে ৭৪ লাখ ৩৯ হাজারের কিছু বেশি হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে শিক্ষার্থী কমেছে চার লাখ আট হাজারের বেশি।

বিপরীতে, ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে শিক্ষার্থী বেড়েছে ৫৯৫ জন। ২০২৪ সালে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ছিল ২৯ হাজার ৭৭ জন, যা ২০২৫ সালে বেড়ে হয়েছে ২৯ হাজার ৬৭২ জন। দেশে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল রয়েছে ১৪৩টি।

মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী বৃদ্ধির পেছনে ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহ, বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার সুবিধা এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ভূমিকা থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ। তবে শিক্ষার্থীদের পছন্দের পরিবর্তন, অভিভাবকদের সিদ্ধান্ত কিংবা মাধ্যমিক থেকে মাদ্রাসায় স্থানান্তরের বিষয়টি প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মনিনুর রশীদ মনে করেন, করোনার পর শিখন ঘাটতি, পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া, শিশুদের শ্রমে যুক্ত হওয়া এবং শিক্ষাক্রমের প্রভাব মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী কমার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। প্রকৃত কারণ জানতে নিবিড় গবেষণা প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।

শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থী বাড়া-কমার পাশাপাশি শিক্ষার মান, ঝরে পড়ার হার, শিক্ষকদের যোগ্যতা এবং উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতিও মূল্যায়ন করা জরুরি। এসব তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষার বিভিন্ন ধারায় কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

বিষয় : শিক্ষার্থী মাদ্রাসা

আপনার মতামত লিখুন

কোন মন্তব্য নেই।

মতামত দিন
Sokaler Bangladesh

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


এক বছরে মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী কমেছে ৪ লাখ, মাদ্রাসায় বেড়েছে ৪৩ হাজার

প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দেশে সাধারণ ধারার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমলেও মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী বাড়ছে। এক বছরের ব্যবধানে দাখিল থেকে কামিল পর্যন্ত শিক্ষা দেওয়া হয়—এমন মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী বেড়েছে ৪৩ হাজারের বেশি। একই সময়ে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলেও শিক্ষার্থী বেড়েছে। তবে সাধারণ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র কারিগরি-ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী কমেছে।


শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান-২০২৫ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের মাদ্রাসা ছিল ৯ হাজার ২৬৯টি। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ২৯৬টি। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ২৭ লাখ ৯৬ হাজারের কিছু বেশি থেকে বেড়ে ২৮ লাখ ৪০ হাজারের বেশি হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে মাদ্রাসা বেড়েছে ২৭টি এবং শিক্ষার্থী বেড়েছে ৪৩ হাজারের বেশি। এ হিসাবে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত নয়।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালে দেশে জুনিয়র স্কুলসহ সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল ১৯ হাজার ১১৭টি। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১৯ হাজার ২১১টি। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ৭৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪৬ জন থেকে কমে ৭৪ লাখ ৩৯ হাজারের কিছু বেশি হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে শিক্ষার্থী কমেছে চার লাখ আট হাজারের বেশি।

বিপরীতে, ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে শিক্ষার্থী বেড়েছে ৫৯৫ জন। ২০২৪ সালে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ছিল ২৯ হাজার ৭৭ জন, যা ২০২৫ সালে বেড়ে হয়েছে ২৯ হাজার ৬৭২ জন। দেশে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল রয়েছে ১৪৩টি।

মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী বৃদ্ধির পেছনে ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহ, বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার সুবিধা এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ভূমিকা থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ। তবে শিক্ষার্থীদের পছন্দের পরিবর্তন, অভিভাবকদের সিদ্ধান্ত কিংবা মাধ্যমিক থেকে মাদ্রাসায় স্থানান্তরের বিষয়টি প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মনিনুর রশীদ মনে করেন, করোনার পর শিখন ঘাটতি, পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া, শিশুদের শ্রমে যুক্ত হওয়া এবং শিক্ষাক্রমের প্রভাব মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী কমার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। প্রকৃত কারণ জানতে নিবিড় গবেষণা প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।

শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থী বাড়া-কমার পাশাপাশি শিক্ষার মান, ঝরে পড়ার হার, শিক্ষকদের যোগ্যতা এবং উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতিও মূল্যায়ন করা জরুরি। এসব তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষার বিভিন্ন ধারায় কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।


Sokaler Bangladesh

সম্পাদক ও প্রকাশক- রবিউল ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৬ Sokaler Bangladesh । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত