সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
Sokaler Bangladesh

‎রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা: নিহত ২, আহত ২৪ বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

‎রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা: নিহত ২, আহত ২৪ বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ

‎

‎সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৪ বাংলাদেশি। নিহত ও আহতদের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কাজ করছে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস। এদিকে হামলার পর ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিমানবন্দরে আটকে পড়া প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রীর আবাসন, খাবার ও বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

‎পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত দুই বাংলাদেশি হলেন মো. শাহেদ আহম্মদ ও মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। শাহেদের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। নাসরুল্লাহর বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদপুর গ্রামে।

‎আইসিইউতে তিন বাংলাদেশি

‎রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, আহত ২৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত এবং ১৩ জন ওমরাহ ভিসায় দেশটিতে গিয়েছিলেন। আহত ব্যক্তিরা রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার অগ্রগতি জানতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে দূতাবাস।

‎কিং আবদুল্লাহ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন তিন বাংলাদেশি হলেন হাফেজ হাসান, কাজী নুরুল্লাহ ও মো. ওমর ফারুক। হাফেজ হাসানের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসুলপুর এলাকায়। তাঁর বাবা ইসহাক ও মা কমলা বেগম। কাজী নুরুল্লাহর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরা গ্রামে। তাঁর বাবা কাজী জয়নাল মিয়া ও মা শিউলি বেগম।

‎হাফেজ হাসান ও কাজী নুরুল্লাহ দুজনই ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষার সময় তারা হামলার শিকার হন। অন্যদিকে মো. ওমর ফারুক সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি। তিনিও রিয়াদ থেকে জেদ্দায় কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

‎বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা

‎রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই বাংলাদেশি হলেন সাফফাত রহমান ও মো. দাউদুল ইসলাম। তাঁদের মধ্যে সাফফাত অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। সাফফাতের বাড়ি নওগাঁর রানীনগর উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তাঁর বাবা মো. মোখলেসার রহমান ও মা রোকেয়া বেগম। দাউদুলের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তাঁর বাবা মো. মহিব উল্লাহ ও মা রোকেয়া বেগম। তাঁরা দুজনই ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

‎রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই বাংলাদেশি হলেন মো. সাইদুল ইসলাম সৌরভ ও আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন। সাইদুলের বাড়ি ঢাকার লালবাগের আমলিগোলা এলাকায়। তাঁর বাবা মো. আবদুল হাই ও মা রহিমা বেগম। রিয়াজ উদ্দীনের বাড়ি ঢাকার মিরপুরের জনতা হাউজিং এলাকায়। তাঁর বাবা মো. আবুল ফজল ও মা তাজকেরা বেগম। তাঁরা দুজনই ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

‎প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. আবদুল্লাহর বাড়ি ঢাকার ডেমরার পূর্ব বক্সনগরে। তাঁর বাবা মো. মোখতার আহমেদ ও মা ফজিলাতুন নেসা। তিনিও ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

‎সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিন বাংলাদেশি হলেন আরমান হোসেন, মোহাম্মদ ও ফয়সাল আহমদ আবদুল হক। আরমানের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের ইব্রাহিমনগর এলাকায়। তাঁর বাবা মো. মজিবুল হক ও মা শামসুন নাহার। তিনি ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। মোহাম্মদ ও ফয়সাল সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি।‎

‎কিংডম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি মো. রফিক মিয়া।

‎কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটিতে চিকিৎসাধীন তিন বাংলাদেশি হলেন ইসমাইল হোসেন, মো. মিসবাহ উদ্দীন হীরা ও মো. রায়হানুল ইসলাম। ইসমাইল ও রায়হানুল সৌদি আরবে কর্মরত। মিসবাহ উদ্দীন হীরার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

‎প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাঁচ বাংলাদেশি হলেন সালমা আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন, মোশাহাদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ এবং সোবেহ সাদেক মো. শাহজাহান সরকার। তাঁরা সবাই সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি।

‎এস্টার সনদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. জামাল। আসাদুল সৌদি আরবে কর্মরত। জামালের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজমা আক্তারের পরিচয় সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালে উমায়ের ও আবদুল্লাহ কামিল নামে আরও দুই বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

‎আহতদের পরিচয় ও শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতালগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

‎আটকে পড়া ৫০০ যাত্রীর বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থা

‎হামলার পর ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকে পড়েন। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যাওয়া যাত্রী, ওমরাহ পালন করতে যাওয়া ব্যক্তি এবং সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা ছিলেন।

‎পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, সৌদি ইমিগ্রেশন ও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় আটকে পড়া যাত্রীদের আবাসন, খাবার এবং বিকল্প পথে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

‎বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালে অবস্থানরত প্রায় ১০০ যাত্রীর জন্য মেরিয়ট ও রেডিসন হোটেল এবং প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকা ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

‎এ ছাড়া ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ইহরামের পোশাক পরে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ৬৭ জনকে বিশেষ বাসে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের বাতিল হওয়া এসভি ৮০৪ ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‎অন্যদিকে, রিয়াদ থেকে বাহরাইনগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের দুই বাংলাদেশি কর্মীকে আল খোবারের স্থলসীমান্ত দিয়ে বাহরাইনে যেতে সহায়তা করা হয়েছে।

‎

আপনার মতামত লিখুন

কোন মন্তব্য নেই।

মতামত দিন
Sokaler Bangladesh

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


‎রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা: নিহত ২, আহত ২৪ বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

‎

‎সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৪ বাংলাদেশি। নিহত ও আহতদের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কাজ করছে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস। এদিকে হামলার পর ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিমানবন্দরে আটকে পড়া প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রীর আবাসন, খাবার ও বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

‎পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত দুই বাংলাদেশি হলেন মো. শাহেদ আহম্মদ ও মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। শাহেদের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। নাসরুল্লাহর বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদপুর গ্রামে।

‎আইসিইউতে তিন বাংলাদেশি

‎রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, আহত ২৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত এবং ১৩ জন ওমরাহ ভিসায় দেশটিতে গিয়েছিলেন। আহত ব্যক্তিরা রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার অগ্রগতি জানতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে দূতাবাস।

‎কিং আবদুল্লাহ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন তিন বাংলাদেশি হলেন হাফেজ হাসান, কাজী নুরুল্লাহ ও মো. ওমর ফারুক। হাফেজ হাসানের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসুলপুর এলাকায়। তাঁর বাবা ইসহাক ও মা কমলা বেগম। কাজী নুরুল্লাহর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরা গ্রামে। তাঁর বাবা কাজী জয়নাল মিয়া ও মা শিউলি বেগম।

‎হাফেজ হাসান ও কাজী নুরুল্লাহ দুজনই ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষার সময় তারা হামলার শিকার হন। অন্যদিকে মো. ওমর ফারুক সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি। তিনিও রিয়াদ থেকে জেদ্দায় কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

‎বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা

‎রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই বাংলাদেশি হলেন সাফফাত রহমান ও মো. দাউদুল ইসলাম। তাঁদের মধ্যে সাফফাত অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। সাফফাতের বাড়ি নওগাঁর রানীনগর উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তাঁর বাবা মো. মোখলেসার রহমান ও মা রোকেয়া বেগম। দাউদুলের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তাঁর বাবা মো. মহিব উল্লাহ ও মা রোকেয়া বেগম। তাঁরা দুজনই ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

‎রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই বাংলাদেশি হলেন মো. সাইদুল ইসলাম সৌরভ ও আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন। সাইদুলের বাড়ি ঢাকার লালবাগের আমলিগোলা এলাকায়। তাঁর বাবা মো. আবদুল হাই ও মা রহিমা বেগম। রিয়াজ উদ্দীনের বাড়ি ঢাকার মিরপুরের জনতা হাউজিং এলাকায়। তাঁর বাবা মো. আবুল ফজল ও মা তাজকেরা বেগম। তাঁরা দুজনই ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

‎প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. আবদুল্লাহর বাড়ি ঢাকার ডেমরার পূর্ব বক্সনগরে। তাঁর বাবা মো. মোখতার আহমেদ ও মা ফজিলাতুন নেসা। তিনিও ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

‎সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিন বাংলাদেশি হলেন আরমান হোসেন, মোহাম্মদ ও ফয়সাল আহমদ আবদুল হক। আরমানের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের ইব্রাহিমনগর এলাকায়। তাঁর বাবা মো. মজিবুল হক ও মা শামসুন নাহার। তিনি ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। মোহাম্মদ ও ফয়সাল সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি।‎

‎কিংডম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি মো. রফিক মিয়া।

‎কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটিতে চিকিৎসাধীন তিন বাংলাদেশি হলেন ইসমাইল হোসেন, মো. মিসবাহ উদ্দীন হীরা ও মো. রায়হানুল ইসলাম। ইসমাইল ও রায়হানুল সৌদি আরবে কর্মরত। মিসবাহ উদ্দীন হীরার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

‎প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাঁচ বাংলাদেশি হলেন সালমা আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন, মোশাহাদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ এবং সোবেহ সাদেক মো. শাহজাহান সরকার। তাঁরা সবাই সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি।

‎এস্টার সনদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. জামাল। আসাদুল সৌদি আরবে কর্মরত। জামালের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজমা আক্তারের পরিচয় সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালে উমায়ের ও আবদুল্লাহ কামিল নামে আরও দুই বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

‎আহতদের পরিচয় ও শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতালগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

‎আটকে পড়া ৫০০ যাত্রীর বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থা

‎হামলার পর ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকে পড়েন। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যাওয়া যাত্রী, ওমরাহ পালন করতে যাওয়া ব্যক্তি এবং সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা ছিলেন।

‎পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, সৌদি ইমিগ্রেশন ও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় আটকে পড়া যাত্রীদের আবাসন, খাবার এবং বিকল্প পথে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

‎বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালে অবস্থানরত প্রায় ১০০ যাত্রীর জন্য মেরিয়ট ও রেডিসন হোটেল এবং প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকা ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

‎এ ছাড়া ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ইহরামের পোশাক পরে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ৬৭ জনকে বিশেষ বাসে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের বাতিল হওয়া এসভি ৮০৪ ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‎অন্যদিকে, রিয়াদ থেকে বাহরাইনগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের দুই বাংলাদেশি কর্মীকে আল খোবারের স্থলসীমান্ত দিয়ে বাহরাইনে যেতে সহায়তা করা হয়েছে।

‎


Sokaler Bangladesh

সম্পাদক ও প্রকাশক- রবিউল ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৬ Sokaler Bangladesh । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত