মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
Sokaler Bangladesh

প্রাণিসম্পদের টিকার শতভাগ উৎপাদন দেশেই করতে হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রাণিসম্পদের টিকার শতভাগ উৎপাদন দেশেই করতে হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

প্রাণিসম্পদ খাতের টিকার চাহিদা সম্পূর্ণভাবে দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, প্রাণিসম্পদের টিকার শতভাগ উৎপাদন দেশে সম্ভব হলে অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমবে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকালে সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় এ খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলেও গুরুত্ব পায়। দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করা এবং মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের বিকল্প নেই। তাই এ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে উৎপাদন বৃদ্ধি ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে বর্তমান সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি গবেষণালব্ধ ফলাফল উৎপাদন ও মাঠপর্যায়ে কাজে লাগাতে হবে।

বিএলআরআইয়ের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য প্রত্যেককে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে এবং গবেষণার বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা হলো, রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিয়ম ও আইন মেনে পরিচালিত হবে এবং প্রত্যেকে নিজের অধিকার ভোগ করতে পারবেন। এ প্রত্যাশা পূরণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দেশের উন্নয়নে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখতে হবে।

তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ চেতনাকে ধারণ করে সবাইকে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের চাহিদা পূরণের পর প্রাণিসম্পদজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। ইতিমধ্যে রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে নাইজেরিয়ায় হ্যাচিং ডিম রপ্তানি করা হয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রাণী ও মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল বলেন, দেশের মানুষের পুষ্টিচাহিদা পূরণ, প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবসম্মত গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। কৃষিজমির অপচয় না করে বিকল্প জমি ও সম্পদ কাজে লাগিয়ে প্রাণিসম্পদ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে সভায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানসহ বিএলআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী বিএলআরআইয়ের ক্যাটল গবেষণা ও ভেড়া গবেষণা খামার এবং সাভারে অবস্থিত কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামার পরিদর্শন করেন।

বিষয় : প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রতিমন্ত্রী টুকু

আপনার মতামত লিখুন

কোন মন্তব্য নেই।

মতামত দিন
Sokaler Bangladesh

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


প্রাণিসম্পদের টিকার শতভাগ উৎপাদন দেশেই করতে হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

প্রাণিসম্পদ খাতের টিকার চাহিদা সম্পূর্ণভাবে দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, প্রাণিসম্পদের টিকার শতভাগ উৎপাদন দেশে সম্ভব হলে অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমবে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকালে সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় এ খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলেও গুরুত্ব পায়। দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করা এবং মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের বিকল্প নেই। তাই এ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে উৎপাদন বৃদ্ধি ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে বর্তমান সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি গবেষণালব্ধ ফলাফল উৎপাদন ও মাঠপর্যায়ে কাজে লাগাতে হবে।

বিএলআরআইয়ের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য প্রত্যেককে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে এবং গবেষণার বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা হলো, রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিয়ম ও আইন মেনে পরিচালিত হবে এবং প্রত্যেকে নিজের অধিকার ভোগ করতে পারবেন। এ প্রত্যাশা পূরণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দেশের উন্নয়নে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখতে হবে।

তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ চেতনাকে ধারণ করে সবাইকে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের চাহিদা পূরণের পর প্রাণিসম্পদজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। ইতিমধ্যে রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে নাইজেরিয়ায় হ্যাচিং ডিম রপ্তানি করা হয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রাণী ও মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল বলেন, দেশের মানুষের পুষ্টিচাহিদা পূরণ, প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবসম্মত গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। কৃষিজমির অপচয় না করে বিকল্প জমি ও সম্পদ কাজে লাগিয়ে প্রাণিসম্পদ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে সভায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানসহ বিএলআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী বিএলআরআইয়ের ক্যাটল গবেষণা ও ভেড়া গবেষণা খামার এবং সাভারে অবস্থিত কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামার পরিদর্শন করেন।


Sokaler Bangladesh

সম্পাদক ও প্রকাশক- রবিউল ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৬ Sokaler Bangladesh । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত