সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
Sokaler Bangladesh

‎ল্যাবে ৫০–৫৫ শতাংশ বায়োক্রুড উৎপাদনে সাফল্য, বাণিজ্যিক প্রকল্পে লাগবে ১২০ কোটি টাকা

মানববর্জ্য ও কৃষিজ বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল, গবেষকদের পাশে থাকার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

মানববর্জ্য ও কৃষিজ বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল, গবেষকদের পাশে থাকার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

‎
‎

‎
‎মানববর্জ্য, পয়ঃশোধনাগারের বর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের সম্ভাবনা উন্মোচন করেছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) গবেষকরা। তাঁদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি বাণিজ্যিক পর্যায়ে নিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
‎
‎শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ প্রযুক্তির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় গবেষকরা তাঁদের উদ্ভাবন, গবেষণার অগ্রগতি এবং দেশে বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।
‎
‎প্রকল্পটির মূল গবেষক কুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামান প্রধানমন্ত্রীকে জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে চলা গবেষণায় ‘হাইড্রোথার্মাল লিকুইফ্যাকশন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্জ্য থেকে জৈব অপরিশোধিত তেল বা বায়োক্রুড উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। গবেষণাগারের পরীক্ষায় বর্জ্য থেকে ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বায়োক্রুড উৎপাদনের সাফল্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ডিজেলসমৃদ্ধ বায়োক্রুড উৎপাদনেও অগ্রগতি হয়েছে।
‎
‎গবেষণার পরবর্তী ধাপে প্রতিদিন এক থেকে তিন টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণে সক্ষম একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয় ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই করতে এ প্ল্যান্ট নির্মাণে আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
‎
‎সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, প্রযুক্তিটি বৃহৎ পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হলে দেশের আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে। এতে বছরে আনুমানিক ৬ হাজার ৫০০ কোটি থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সম্ভাবনা বাস্তবায়নে প্রযুক্তিটির বৃহৎ পরিসরে কার্যকারিতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা যাচাই জরুরি।
‎
‎প্রকল্পটির সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ বাস্তবায়ন পরিকল্পনা শুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গবেষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সরকারি সহযোগিতায় প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিক পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হলে একদিকে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে দেশে নতুন জ্বালানি শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
‎
‎অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাছুদ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

বিষয় : প্রধানমন্ত্রী, তারেক রহমান

আপনার মতামত লিখুন

কোন মন্তব্য নেই।

মতামত দিন
Sokaler Bangladesh

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


মানববর্জ্য ও কৃষিজ বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল, গবেষকদের পাশে থাকার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

‎
‎

‎
‎মানববর্জ্য, পয়ঃশোধনাগারের বর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের সম্ভাবনা উন্মোচন করেছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) গবেষকরা। তাঁদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি বাণিজ্যিক পর্যায়ে নিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
‎
‎শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ প্রযুক্তির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় গবেষকরা তাঁদের উদ্ভাবন, গবেষণার অগ্রগতি এবং দেশে বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।
‎
‎প্রকল্পটির মূল গবেষক কুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামান প্রধানমন্ত্রীকে জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে চলা গবেষণায় ‘হাইড্রোথার্মাল লিকুইফ্যাকশন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্জ্য থেকে জৈব অপরিশোধিত তেল বা বায়োক্রুড উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। গবেষণাগারের পরীক্ষায় বর্জ্য থেকে ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বায়োক্রুড উৎপাদনের সাফল্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ডিজেলসমৃদ্ধ বায়োক্রুড উৎপাদনেও অগ্রগতি হয়েছে।
‎
‎গবেষণার পরবর্তী ধাপে প্রতিদিন এক থেকে তিন টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণে সক্ষম একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয় ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই করতে এ প্ল্যান্ট নির্মাণে আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
‎
‎সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, প্রযুক্তিটি বৃহৎ পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হলে দেশের আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে। এতে বছরে আনুমানিক ৬ হাজার ৫০০ কোটি থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সম্ভাবনা বাস্তবায়নে প্রযুক্তিটির বৃহৎ পরিসরে কার্যকারিতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা যাচাই জরুরি।
‎
‎প্রকল্পটির সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ বাস্তবায়ন পরিকল্পনা শুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গবেষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সরকারি সহযোগিতায় প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিক পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হলে একদিকে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে দেশে নতুন জ্বালানি শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
‎
‎অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাছুদ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।


Sokaler Bangladesh

সম্পাদক ও প্রকাশক- রবিউল ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৬ Sokaler Bangladesh । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত