সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
Sokaler Bangladesh

অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে হেনস্তার প্রতিবাদে হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে তরুণেরা


সকালের বাংলাদেশ
সকালের বাংলাদেশ
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে হেনস্তার প্রতিবাদে হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে তরুণেরা

হাফপ্যান্টকে ‘অশালীন’ আখ্যা দিয়ে এক অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে মেট্রো স্টেশনে পুলিশের হেনস্তার প্রতিবাদে হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে চড়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন কয়েকজন তরুণ।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল সাতটার দিকে ঢাকার ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে এ কর্মসূচিতে অংশ নেন পাঁচ তরুণ। গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে যাওয়ার সময় একই স্টেশনে সাজ্জাদ হোসেন নামের ওই অ্যাথলেট প্রশিক্ষক পুলিশের হেনস্তার শিকার হন।

সাজ্জাদ হোসেনকে হেনস্তার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে ‘হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে!’ শীর্ষক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, স্বাভাবিক স্পোর্টসওয়্যার পরার কারণে কাউকে হয়রানি করা বা গণপরিবহন ব্যবহারে বাধা দেওয়া উচিত নয়।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আয়োজকদের খোলা ফেসবুক ইভেন্টে বুধবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ৬৭২ জন ‘গোয়িং’ এবং ৮ হাজার ২০০ জন ‘ইন্টারেস্টেড’ ছিলেন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে ফার্মগেটের আনোয়ারা উদ্যান-সংলগ্ন মেট্রো স্টেশনের নিচে আসেন বেসরকারি চাকরিজীবী ও রানার সাগর মজুমদার, বেসরকারি চাকরিজীবী রকিবুল ইসলাম এবং ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমান।

সাগর মজুমদার বলেন, ‘আমরা রানার। দৌড়ানোর সময় শর্টস পরাটা বেশি কমফোর্টেবল। সে জন্য আমরা শর্টস পরি। দেশ-বিদেশে পরিচিত অ্যাথলেট সাজ্জাদ হোসেন সম্প্রতি শর্টস পরে মেট্রোতে উঠতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন। আমরা চাই না আর কেউ তার মতো হয়রানির শিকার হোক। সে জন্যই প্রতিবাদ জানাতে আসা।’

তিনি বলেন, একজন রানার হিসেবে তিনিও মেট্রোরেল বা অন্য কোনো জায়গায় একই ধরনের হয়রানির শিকার হতে পারেন। সেই জায়গা থেকেই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন তিনি।

সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাগর বলেন, ‘আসুন, আমরা নেগেটিভ মাইন্ডটাকে সরিয়ে ফেলি। শর্টস আসলে বিষয় নয়, নেতিবাচকভাবে দেখলে নেতিবাচক আর ইতিবাচকভাবে দেখলে ইতিবাচক।’

সকাল সাতটার পর শর্টস পরে মেট্রোরেলে ওঠেন সাগর মজুমদার ও মাহফুজুর রহমান। তারা টিকিট কাউন্টার থেকে বিজয় সরণি স্টেশনের টিকিট কাটেন। পরে টিকিট পাঞ্চ করে প্ল্যাটফর্মে যান এবং ফার্মগেট থেকে মেট্রোরেলে চড়ে বিজয় সরণি স্টেশনে নেমে যান।

তবে রকিবুল ইসলাম তাদের সঙ্গে মেট্রোরেলে ওঠেননি। তিনি দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমি শুধু একজন রানার ভাইকে হয়রানি বা হ্যারেস করা হয়েছে, ইভেন্টে এটা দেখলাম। পরিচিত অনেকে ইন্টারেস্টেড দিয়েছে। সেই অনুপাতে প্রতিবাদস্বরূপ ইভেন্টে অংশ নিতে এসেছিলাম। কিন্তু গিয়ে দেখি ব্যতিক্রম কিছু।’

সাগর ও মাহফুজুর মেট্রোরেলে ওঠার সময় ফার্মগেট স্টেশনের অন্য একটি ফটক দিয়ে আরও দুজন তরুণ হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে ওঠেন বলে জানা গেছে। তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ওই দুজন ফার্মগেট থেকে মতিঝিলের টিকিট কেটেছিলেন।

এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে শরীরচর্চা শেষে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে যান অ্যাথলেট প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন। এ সময় ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য তার পোশাককে ‘অশালীন’ বলে টিকিট পাঞ্চ মেশিনের সামনে প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে মেট্রোরেলে চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ড্রেসকোড নেই বলে দাবি করা হয়েছে আয়োজকদের পক্ষ থেকে। এ ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজকদের ফেসবুক ইভেন্টে বলা হয়, ‘আপনার রানিং শর্টস পরুন, টি-শার্ট পরুন, একসঙ্গে আসুন, মেট্রোতে উঠুন। এটি কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরির আয়োজন নয়। এটি একটি শান্তিপূর্ণ নাগরিক প্রতিবাদ—স্বেচ্ছাচারী হয়রানির বিরুদ্ধে, স্পষ্ট নিয়মের দাবিতে এবং যাত্রীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণের পক্ষে। কোনো কিছু নিষিদ্ধ হলে তার স্পষ্ট ও লিখিত নিয়ম থাকা উচিত। সমস্যা শর্টসে নয়, সমস্যা হয়রানিতে!’

বিষয় : হাফপ্যান্ট

আপনার মতামত লিখুন

কোন মন্তব্য নেই।

মতামত দিন
Sokaler Bangladesh

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে হেনস্তার প্রতিবাদে হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে তরুণেরা

প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

হাফপ্যান্টকে ‘অশালীন’ আখ্যা দিয়ে এক অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে মেট্রো স্টেশনে পুলিশের হেনস্তার প্রতিবাদে হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে চড়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন কয়েকজন তরুণ।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল সাতটার দিকে ঢাকার ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে এ কর্মসূচিতে অংশ নেন পাঁচ তরুণ। গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে যাওয়ার সময় একই স্টেশনে সাজ্জাদ হোসেন নামের ওই অ্যাথলেট প্রশিক্ষক পুলিশের হেনস্তার শিকার হন।

সাজ্জাদ হোসেনকে হেনস্তার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে ‘হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে!’ শীর্ষক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, স্বাভাবিক স্পোর্টসওয়্যার পরার কারণে কাউকে হয়রানি করা বা গণপরিবহন ব্যবহারে বাধা দেওয়া উচিত নয়।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আয়োজকদের খোলা ফেসবুক ইভেন্টে বুধবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ৬৭২ জন ‘গোয়িং’ এবং ৮ হাজার ২০০ জন ‘ইন্টারেস্টেড’ ছিলেন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে ফার্মগেটের আনোয়ারা উদ্যান-সংলগ্ন মেট্রো স্টেশনের নিচে আসেন বেসরকারি চাকরিজীবী ও রানার সাগর মজুমদার, বেসরকারি চাকরিজীবী রকিবুল ইসলাম এবং ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমান।

সাগর মজুমদার বলেন, ‘আমরা রানার। দৌড়ানোর সময় শর্টস পরাটা বেশি কমফোর্টেবল। সে জন্য আমরা শর্টস পরি। দেশ-বিদেশে পরিচিত অ্যাথলেট সাজ্জাদ হোসেন সম্প্রতি শর্টস পরে মেট্রোতে উঠতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন। আমরা চাই না আর কেউ তার মতো হয়রানির শিকার হোক। সে জন্যই প্রতিবাদ জানাতে আসা।’

তিনি বলেন, একজন রানার হিসেবে তিনিও মেট্রোরেল বা অন্য কোনো জায়গায় একই ধরনের হয়রানির শিকার হতে পারেন। সেই জায়গা থেকেই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন তিনি।

সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাগর বলেন, ‘আসুন, আমরা নেগেটিভ মাইন্ডটাকে সরিয়ে ফেলি। শর্টস আসলে বিষয় নয়, নেতিবাচকভাবে দেখলে নেতিবাচক আর ইতিবাচকভাবে দেখলে ইতিবাচক।’

সকাল সাতটার পর শর্টস পরে মেট্রোরেলে ওঠেন সাগর মজুমদার ও মাহফুজুর রহমান। তারা টিকিট কাউন্টার থেকে বিজয় সরণি স্টেশনের টিকিট কাটেন। পরে টিকিট পাঞ্চ করে প্ল্যাটফর্মে যান এবং ফার্মগেট থেকে মেট্রোরেলে চড়ে বিজয় সরণি স্টেশনে নেমে যান।

তবে রকিবুল ইসলাম তাদের সঙ্গে মেট্রোরেলে ওঠেননি। তিনি দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমি শুধু একজন রানার ভাইকে হয়রানি বা হ্যারেস করা হয়েছে, ইভেন্টে এটা দেখলাম। পরিচিত অনেকে ইন্টারেস্টেড দিয়েছে। সেই অনুপাতে প্রতিবাদস্বরূপ ইভেন্টে অংশ নিতে এসেছিলাম। কিন্তু গিয়ে দেখি ব্যতিক্রম কিছু।’

সাগর ও মাহফুজুর মেট্রোরেলে ওঠার সময় ফার্মগেট স্টেশনের অন্য একটি ফটক দিয়ে আরও দুজন তরুণ হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে ওঠেন বলে জানা গেছে। তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ওই দুজন ফার্মগেট থেকে মতিঝিলের টিকিট কেটেছিলেন।

এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে শরীরচর্চা শেষে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে যান অ্যাথলেট প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন। এ সময় ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য তার পোশাককে ‘অশালীন’ বলে টিকিট পাঞ্চ মেশিনের সামনে প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে মেট্রোরেলে চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ড্রেসকোড নেই বলে দাবি করা হয়েছে আয়োজকদের পক্ষ থেকে। এ ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজকদের ফেসবুক ইভেন্টে বলা হয়, ‘আপনার রানিং শর্টস পরুন, টি-শার্ট পরুন, একসঙ্গে আসুন, মেট্রোতে উঠুন। এটি কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরির আয়োজন নয়। এটি একটি শান্তিপূর্ণ নাগরিক প্রতিবাদ—স্বেচ্ছাচারী হয়রানির বিরুদ্ধে, স্পষ্ট নিয়মের দাবিতে এবং যাত্রীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণের পক্ষে। কোনো কিছু নিষিদ্ধ হলে তার স্পষ্ট ও লিখিত নিয়ম থাকা উচিত। সমস্যা শর্টসে নয়, সমস্যা হয়রানিতে!’


Sokaler Bangladesh

সম্পাদক ও প্রকাশক- রবিউল ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৬ Sokaler Bangladesh । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত