মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
Sokaler Bangladesh

‎ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরল চেনা যানজট


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

‎ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরল চেনা যানজট


‎দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটি শেষে আবারও চিরচেনা যানজট আর জনজটের নগরীতে ফিরেছে ঢাকা। সকাল গড়াতেই রাজধানীর সড়কে বাড়তে থাকে যানবাহনের চাপ। বাসের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা, গণপরিবহনে উপচেপড়া ভিড়, গাড়ির সারি আর হর্নের শব্দে কর্মব্যস্ত হয়ে ওঠে নগরজীবন। সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট দেখা দেয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন কর্মস্থলমুখী মানুষ। তবে ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতায় পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
‎
‎রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর রামপুরা, হাতিরঝিল, বাড্ডা, মালিবাগ, মৌচাক ও পল্টন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। পাঁচ দিনের ছুটি কাটিয়ে অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য কাজে ফিরেছেন নগরবাসী। তাঁদের সঙ্গে সড়কে বেড়েছে বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশা ও মোটরসাইকেলের চলাচল। সকাল ৮টার পর থেকেই বিভিন্ন সড়কে যানবাহনের সারি দীর্ঘ হতে থাকে।
‎
‎সরেজমিনে দেখা যায়, বাসস্ট্যান্ডগুলোতে গণপরিবহনের অপেক্ষায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন যাত্রীরা। বাস আসতেই ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু হয়। কেউ ভিড় ঠেলে বাসে উঠতে পারলেও অনেককে পরবর্তী বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আবার আসন না পেয়ে অনেকে দাঁড়িয়েই গন্তব্যে রওনা হন। যাত্রী ওঠানো-নামানোর কারণে বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের গতি কমে আসে।
‎
‎রামপুরা ও বাড্ডা এলাকায় সকাল থেকেই ছিল কর্মজীবী মানুষের ব্যস্ততা। সড়কের এক পাশে বাসের অপেক্ষায় যাত্রীদের ভিড়, অন্য পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। হাতিরঝিল, মালিবাগ ও মৌচাক এলাকাতেও যানবাহনের চাপের কারণে ধীরগতিতে চলতে দেখা যায় গাড়ি। পল্টন এলাকায় অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানমুখী মানুষের পদচারণায় ব্যস্ত হয়ে ওঠে ফুটপাত। সড়ক পারাপারেও অপেক্ষা করতে হয় পথচারীদের।
‎
‎বাড্ডা এলাকায় কর্মরত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক পরিদর্শক মো. দেলোয়ার বলেন, দীর্ঘ ছুটির পর রোববার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে সড়কে যানবাহনের চাপ বেশি ছিল। সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত প্রচুর যানজট হয়। তবে ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে। পরে যানবাহনের চাপ কমে আসে এবং যানজটও অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে যায়।
‎
‎বাসচালক আবুল কালাম বলেন, ছুটির পর সড়কে গাড়ি ও যাত্রী—দুইয়ের চাপই বেড়েছে। যানজটের কারণে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে বেশি সময় লাগছে। বাসে যাত্রী ওঠানো-নামানোর সময়ও ভিড় সামলাতে হচ্ছে।
‎
‎অফিসগামী যাত্রী মো. মকবুল হোসেন জানান, সকালে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। বাসে উঠতে পারলেও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে স্বস্তিতে যাতায়াত করা কঠিন। যানজট থাকলে সময়মতো অফিসে পৌঁছানো নিয়েও দুশ্চিন্তা থাকে।
‎
‎পথচারী আয়নাল হোসেন বলেন, ছুটির সময় সড়কে মানুষের চলাচল তুলনামূলক কম ছিল। ছুটি শেষে আবারও আগের মতো ভিড় দেখা যাচ্ছে। যানবাহনের চাপের কারণে রাস্তা পার হতেও অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
‎
‎দুর্গাপূজার ছুটিতে রাজধানীর সড়কে যে তুলনামূলক স্বস্তি ছিল, কর্মজীবী মানুষের প্রত্যাবর্তনে তা অনেকটাই কেটে গেছে। গণপরিবহনের চাপ, যানবাহনের ধীরগতি ও বাসের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা—সব মিলিয়ে ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসেই নগরবাসীকে পড়তে হয়েছে চেনা ভোগান্তিতে।

বিষয় : ঢাকা

আপনার মতামত লিখুন

কোন মন্তব্য নেই।

মতামত দিন
Sokaler Bangladesh

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


‎ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরল চেনা যানজট

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image


‎দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটি শেষে আবারও চিরচেনা যানজট আর জনজটের নগরীতে ফিরেছে ঢাকা। সকাল গড়াতেই রাজধানীর সড়কে বাড়তে থাকে যানবাহনের চাপ। বাসের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা, গণপরিবহনে উপচেপড়া ভিড়, গাড়ির সারি আর হর্নের শব্দে কর্মব্যস্ত হয়ে ওঠে নগরজীবন। সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট দেখা দেয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন কর্মস্থলমুখী মানুষ। তবে ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতায় পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
‎
‎রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর রামপুরা, হাতিরঝিল, বাড্ডা, মালিবাগ, মৌচাক ও পল্টন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। পাঁচ দিনের ছুটি কাটিয়ে অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য কাজে ফিরেছেন নগরবাসী। তাঁদের সঙ্গে সড়কে বেড়েছে বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশা ও মোটরসাইকেলের চলাচল। সকাল ৮টার পর থেকেই বিভিন্ন সড়কে যানবাহনের সারি দীর্ঘ হতে থাকে।
‎
‎সরেজমিনে দেখা যায়, বাসস্ট্যান্ডগুলোতে গণপরিবহনের অপেক্ষায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন যাত্রীরা। বাস আসতেই ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু হয়। কেউ ভিড় ঠেলে বাসে উঠতে পারলেও অনেককে পরবর্তী বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আবার আসন না পেয়ে অনেকে দাঁড়িয়েই গন্তব্যে রওনা হন। যাত্রী ওঠানো-নামানোর কারণে বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের গতি কমে আসে।
‎
‎রামপুরা ও বাড্ডা এলাকায় সকাল থেকেই ছিল কর্মজীবী মানুষের ব্যস্ততা। সড়কের এক পাশে বাসের অপেক্ষায় যাত্রীদের ভিড়, অন্য পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। হাতিরঝিল, মালিবাগ ও মৌচাক এলাকাতেও যানবাহনের চাপের কারণে ধীরগতিতে চলতে দেখা যায় গাড়ি। পল্টন এলাকায় অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানমুখী মানুষের পদচারণায় ব্যস্ত হয়ে ওঠে ফুটপাত। সড়ক পারাপারেও অপেক্ষা করতে হয় পথচারীদের।
‎
‎বাড্ডা এলাকায় কর্মরত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক পরিদর্শক মো. দেলোয়ার বলেন, দীর্ঘ ছুটির পর রোববার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে সড়কে যানবাহনের চাপ বেশি ছিল। সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত প্রচুর যানজট হয়। তবে ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে। পরে যানবাহনের চাপ কমে আসে এবং যানজটও অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে যায়।
‎
‎বাসচালক আবুল কালাম বলেন, ছুটির পর সড়কে গাড়ি ও যাত্রী—দুইয়ের চাপই বেড়েছে। যানজটের কারণে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে বেশি সময় লাগছে। বাসে যাত্রী ওঠানো-নামানোর সময়ও ভিড় সামলাতে হচ্ছে।
‎
‎অফিসগামী যাত্রী মো. মকবুল হোসেন জানান, সকালে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। বাসে উঠতে পারলেও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে স্বস্তিতে যাতায়াত করা কঠিন। যানজট থাকলে সময়মতো অফিসে পৌঁছানো নিয়েও দুশ্চিন্তা থাকে।
‎
‎পথচারী আয়নাল হোসেন বলেন, ছুটির সময় সড়কে মানুষের চলাচল তুলনামূলক কম ছিল। ছুটি শেষে আবারও আগের মতো ভিড় দেখা যাচ্ছে। যানবাহনের চাপের কারণে রাস্তা পার হতেও অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
‎
‎দুর্গাপূজার ছুটিতে রাজধানীর সড়কে যে তুলনামূলক স্বস্তি ছিল, কর্মজীবী মানুষের প্রত্যাবর্তনে তা অনেকটাই কেটে গেছে। গণপরিবহনের চাপ, যানবাহনের ধীরগতি ও বাসের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা—সব মিলিয়ে ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসেই নগরবাসীকে পড়তে হয়েছে চেনা ভোগান্তিতে।


Sokaler Bangladesh

সম্পাদক ও প্রকাশক- রবিউল ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৬ Sokaler Bangladesh । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত