শুরুতে তাসকিন আহমেদের আগুনঝরা বোলিংয়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপে ধস, মাঝপথে প্রতিপক্ষের ঘুরে দাঁড়ানো—সব মিলিয়ে ম্যাচে লড়াইয়ের রসদ ছিল বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু ব্যাট হাতে সেই লড়াইয়ের ন্যূনতম প্রতিদানও দিতে পারল না টাইগাররা। জিম্বাবুয়ের ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটারদের একের পর এক ব্যর্থতায় ১৭২ রানেই গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ। ফলে আবুধাবিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৯৯ রানের বড় হার নিয়ে অভিযান শুরু করল লাল-সবুজের দল।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। জবাবে ৩৩.৪ ওভারে ১৭২ রানেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। ১০১ বলে ৮১ রান করা ব্রেন্ডন টেইলর এবং ১০৬ বলে ৯৩ রানের ইনিংস খেলা ক্রেইগ আরভিন জিম্বাবুয়ের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন। ম্যাচসেরা হন আরভিন।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ব্লেসিং মুজারাবানির বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ১৭ বলে ৯ রান করে ফেরেন সৌম্য সরকার। এরপর তানজিদ হাসান তামিম আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে কিছুটা আশার আলো দেখালেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। তার ব্যাট থেকে আসে ৪৬ রান। অন্যদিকে অভিজ্ঞ নাজমুল হোসেন শান্ত ৪ এবং অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় ১৩ রান করে বিদায় নিলে দ্রুতই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলার দায়িত্ব ছিল সাইফ হাসান ও মোসাদ্দেক হোসেনের কাঁধে। কিন্তু তারাও ব্যর্থ হন। মোসাদ্দেক ১১ এবং সাইফ ২৬ রান করে ফিরলে জয়ের আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। এরপর নুরুল হাসান সোহান ৫, শরিফুল ইসলাম শূন্য এবং মুস্তাফিজুর রহমান ৬ রান করে আউট হন। রিশাদ হোসেনের ৩৩ বলে ২৩ রান কেবল হারের ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেছে। শেষ পর্যন্ত ৯৯ রানের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় জিম্বাবুয়ে।
এর আগে বল হাতে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। পেসার তাসকিন আহমেদের গতিময় বোলিংয়ে মাত্র সাত ওভারের মধ্যে তিন উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ব্রায়ান বেনেটকে এলবিডব্লিউ করেন তাসকিন। এরপর বেন কারেনকে ৬ রানে ফিরিয়ে দেন তিনি। পরের ওভারে তাফাদজওয়া সিগাকেও উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের ক্যাচে পরিণত করেন এই পেসার। ১৫ বলে ১৬ রান করেন সিগা। তাসকিনের বোলিংয়ে তখন বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল জিম্বাবুয়ে।
তবে চতুর্থ উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন অভিজ্ঞ ব্রেন্ডন টেইলর ও ক্রেইগ আরভিন। দুজনের দেড়শ রানের জুটি ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেয়। একের পর এক বোলার পরিবর্তন করেও এই জুটি ভাঙতে পারছিল না বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত সপ্তম বোলার হিসেবে আক্রমণে এসে সাফল্য এনে দেন সাইফ হাসান। তার বলে মোসাদ্দেক হোসেনের ক্যাচ হয়ে ৮১ রানে ফেরেন টেইলর। পরের ওভারেই সাইফের শিকার হন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা, যিনি করেন মাত্র ৪ রান।
এরপর ওয়েসলি মাদাভেরাকে ১৭ রানে ফিরিয়ে জিম্বাবুয়ের রানের গতি কমানোর চেষ্টা করেন রিশাদ হোসেন। আরভিন তখন সেঞ্চুরির পথে। কিন্তু ৯৩ রানে তাকে থামান শরিফুল ইসলাম। নুরুল হাসান সোহানের ক্যাচে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফেরেন জিম্বাবুয়ের এই ব্যাটার। পরের ওভারেই ব্র্যাড ইভানসকে ৫ রানে ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন শরিফুল।
তবু শেষ দিকে রান তুলতে থামেনি জিম্বাবুয়ে। ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ও নিউম্যান নিয়ামুরির অপরাজিত ৩৭ রানের জুটি দলকে আড়াইশ পেরিয়ে ২৭১ রানে পৌঁছে দেয়। দুজনই করেন ২১ রান করে। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন ৪৪ রানে ৩ উইকেট এবং শরিফুল ৪৭ রানে ২ উইকেট নেন। সাইফও ১৭ রানে ২ উইকেট শিকার করেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
জিম্বাবুয়ে: ৫০ ওভারে ২৭১/৮। ক্রেইগ আরভিন ৯৩, ব্রেন্ডন টেইলর ৮১, ওয়েসলি মাদাভেরা ১৭, নিউম্যান নিয়ামুরি ২১*, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ২১*। তাসকিন ৩/৪৪, শরিফুল ২/৪৭, সাইফ ২/১৭, রিশাদ ১/৬৬।
বাংলাদেশ: ৩৩.৪ ওভারে ১৭২ অলআউট। তানজিদ হাসান তামিম ৪৬, সাইফ হাসান ২৬, রিশাদ হোসেন ২৩, তাসকিন আহমেদ ১৬*, তাওহিদ হৃদয় ১৩, মোসাদ্দেক হোসেন ১১। ব্র্যাড ইভানস ৪/৪৫, সিকান্দার রাজা ২/২৮, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ২/১৮।
ফল: জিম্বাবুয়ে ৯৯ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: ক্রেইগ আরভিন।
বিষয় : বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬
শুরুতে তাসকিন আহমেদের আগুনঝরা বোলিংয়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপে ধস, মাঝপথে প্রতিপক্ষের ঘুরে দাঁড়ানো—সব মিলিয়ে ম্যাচে লড়াইয়ের রসদ ছিল বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু ব্যাট হাতে সেই লড়াইয়ের ন্যূনতম প্রতিদানও দিতে পারল না টাইগাররা। জিম্বাবুয়ের ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটারদের একের পর এক ব্যর্থতায় ১৭২ রানেই গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ। ফলে আবুধাবিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৯৯ রানের বড় হার নিয়ে অভিযান শুরু করল লাল-সবুজের দল।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। জবাবে ৩৩.৪ ওভারে ১৭২ রানেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। ১০১ বলে ৮১ রান করা ব্রেন্ডন টেইলর এবং ১০৬ বলে ৯৩ রানের ইনিংস খেলা ক্রেইগ আরভিন জিম্বাবুয়ের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন। ম্যাচসেরা হন আরভিন।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ব্লেসিং মুজারাবানির বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ১৭ বলে ৯ রান করে ফেরেন সৌম্য সরকার। এরপর তানজিদ হাসান তামিম আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে কিছুটা আশার আলো দেখালেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। তার ব্যাট থেকে আসে ৪৬ রান। অন্যদিকে অভিজ্ঞ নাজমুল হোসেন শান্ত ৪ এবং অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় ১৩ রান করে বিদায় নিলে দ্রুতই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলার দায়িত্ব ছিল সাইফ হাসান ও মোসাদ্দেক হোসেনের কাঁধে। কিন্তু তারাও ব্যর্থ হন। মোসাদ্দেক ১১ এবং সাইফ ২৬ রান করে ফিরলে জয়ের আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। এরপর নুরুল হাসান সোহান ৫, শরিফুল ইসলাম শূন্য এবং মুস্তাফিজুর রহমান ৬ রান করে আউট হন। রিশাদ হোসেনের ৩৩ বলে ২৩ রান কেবল হারের ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেছে। শেষ পর্যন্ত ৯৯ রানের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় জিম্বাবুয়ে।
এর আগে বল হাতে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। পেসার তাসকিন আহমেদের গতিময় বোলিংয়ে মাত্র সাত ওভারের মধ্যে তিন উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ব্রায়ান বেনেটকে এলবিডব্লিউ করেন তাসকিন। এরপর বেন কারেনকে ৬ রানে ফিরিয়ে দেন তিনি। পরের ওভারে তাফাদজওয়া সিগাকেও উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের ক্যাচে পরিণত করেন এই পেসার। ১৫ বলে ১৬ রান করেন সিগা। তাসকিনের বোলিংয়ে তখন বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল জিম্বাবুয়ে।
তবে চতুর্থ উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন অভিজ্ঞ ব্রেন্ডন টেইলর ও ক্রেইগ আরভিন। দুজনের দেড়শ রানের জুটি ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেয়। একের পর এক বোলার পরিবর্তন করেও এই জুটি ভাঙতে পারছিল না বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত সপ্তম বোলার হিসেবে আক্রমণে এসে সাফল্য এনে দেন সাইফ হাসান। তার বলে মোসাদ্দেক হোসেনের ক্যাচ হয়ে ৮১ রানে ফেরেন টেইলর। পরের ওভারেই সাইফের শিকার হন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা, যিনি করেন মাত্র ৪ রান।
এরপর ওয়েসলি মাদাভেরাকে ১৭ রানে ফিরিয়ে জিম্বাবুয়ের রানের গতি কমানোর চেষ্টা করেন রিশাদ হোসেন। আরভিন তখন সেঞ্চুরির পথে। কিন্তু ৯৩ রানে তাকে থামান শরিফুল ইসলাম। নুরুল হাসান সোহানের ক্যাচে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফেরেন জিম্বাবুয়ের এই ব্যাটার। পরের ওভারেই ব্র্যাড ইভানসকে ৫ রানে ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন শরিফুল।
তবু শেষ দিকে রান তুলতে থামেনি জিম্বাবুয়ে। ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ও নিউম্যান নিয়ামুরির অপরাজিত ৩৭ রানের জুটি দলকে আড়াইশ পেরিয়ে ২৭১ রানে পৌঁছে দেয়। দুজনই করেন ২১ রান করে। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন ৪৪ রানে ৩ উইকেট এবং শরিফুল ৪৭ রানে ২ উইকেট নেন। সাইফও ১৭ রানে ২ উইকেট শিকার করেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
জিম্বাবুয়ে: ৫০ ওভারে ২৭১/৮। ক্রেইগ আরভিন ৯৩, ব্রেন্ডন টেইলর ৮১, ওয়েসলি মাদাভেরা ১৭, নিউম্যান নিয়ামুরি ২১*, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ২১*। তাসকিন ৩/৪৪, শরিফুল ২/৪৭, সাইফ ২/১৭, রিশাদ ১/৬৬।
বাংলাদেশ: ৩৩.৪ ওভারে ১৭২ অলআউট। তানজিদ হাসান তামিম ৪৬, সাইফ হাসান ২৬, রিশাদ হোসেন ২৩, তাসকিন আহমেদ ১৬*, তাওহিদ হৃদয় ১৩, মোসাদ্দেক হোসেন ১১। ব্র্যাড ইভানস ৪/৪৫, সিকান্দার রাজা ২/২৮, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ২/১৮।
ফল: জিম্বাবুয়ে ৯৯ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: ক্রেইগ আরভিন।

কোন মন্তব্য নেই।