জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে শরীফ ওসমান হাদিকে সমাহিত করা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসলামী বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানি। নুরের ‘হু ইজ হাদি?’ মন্তব্যের জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে হাদির অবদান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান তিনি।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে নুরুল হক নুর বলেন, জাতীয় কবির পাশে হাদিকে সমাহিত করা উচিত হয়নি এবং ভবিষ্যতে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তার এ বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে রফিকুল ইসলাম মাদানি বলেন, ২০১৯-২০ সাল থেকেই নুরের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। তারা একসঙ্গে মোদিবিরোধী আন্দোলনেও অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে শরীফ ওসমান হাদির সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ না থাকলেও দেশের পক্ষে এবং গণমানুষের অধিকার আদায়ে তার অবদানের কথা স্মরণ করেন তিনি।
মাদানি লেখেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে আদর্শ, দেশের মানুষের প্রতি টান এবং সত্যের পক্ষে থাকা তার কাছে সবসময় বড়। নুরের সঙ্গে ব্যক্তিগত সখ্য থাকা সত্ত্বেও হাদির কবর নিয়ে এমন সমালোচনা তিনি মেনে নিতে পারেননি।
নুরের ‘হু ইজ হাদি?’ প্রশ্নের জবাবে মাদানি লেখেন, হাদি ছিলেন জাতির ঘুমন্ত দেশপ্রেমিক তরুণদের জাগিয়ে তোলার ‘হেমিলিওনের বাঁশিওয়ালা’। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে শিকল ভাঙার ডাক এবং কৃষক, শ্রমিক, আলেম-ওলামা ও দিনমজুরের চোখের জলের প্রতীক ছিলেন তিনি।
তিনি আরও লেখেন, হাদি ছিলেন শত্রুর সঙ্গেও ইনসাফের কথা বলা হার না-মানা তারুণ্যের প্রতীক। নিরীহ মানুষের ওপর জুলুম দেখে বিদ্রোহে ফেটে পড়া এক মহাকাব্যিক কবি ছিলেন তিনি। একসময় নুরের দুর্দিনেও হাদি তার পক্ষে প্রতিবাদ করেছিলেন উল্লেখ করে মাদানি বলেন, সেই মানুষটির মৃত্যুর পর তার কবরের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তোলা চরম অকৃতজ্ঞতা।
নুরুল হক নুরকে উদ্দেশ করে মাদানি আরও বলেন, আঘাত পেয়ে মানুষের ভালোবাসা নিয়ে উঁচুতে উঠলেও ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে তিনি এখন আবোলতাবোল বলছেন। একসময় মানুষ নুরকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভাবলেও বর্তমানে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে হতাশা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি নুরের দলের লোকজনের মধ্যেও হতাশা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন এই ইসলামী বক্তা।
পোস্টে মাদানি অভিযোগ করেন, জনরোষের ভয়ে বিএনপিতে ঘাপটি মেরে থাকা ব্যক্তিরা কৌশলে নুর ও রাশেদকে ব্যবহার করছেন। টাকা ও ক্ষমতার লোভে এ ধরনের স্পর্শকাতর মন্তব্য করে তারা নিজেদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে ঝুঁকির মুখে ফেলছেন বলেও সতর্ক করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে মাদানি বলেন, ক্ষমতা ও অর্থ সাময়িক। মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে হলে মানুষের জন্য রাজপথে দাঁড়িয়ে জীবন বাজি রাখতে হয়। হাদি নিজের জীবন দিয়ে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছেন। অন্যদিকে ক্ষমতার মোহে পড়ে নুর সেই ভালোবাসা হারাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিষয় : নূরুল হক নূর রফিকুল ইসলাম মাদানি

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে শরীফ ওসমান হাদিকে সমাহিত করা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসলামী বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানি। নুরের ‘হু ইজ হাদি?’ মন্তব্যের জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে হাদির অবদান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান তিনি।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে নুরুল হক নুর বলেন, জাতীয় কবির পাশে হাদিকে সমাহিত করা উচিত হয়নি এবং ভবিষ্যতে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তার এ বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে রফিকুল ইসলাম মাদানি বলেন, ২০১৯-২০ সাল থেকেই নুরের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। তারা একসঙ্গে মোদিবিরোধী আন্দোলনেও অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে শরীফ ওসমান হাদির সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ না থাকলেও দেশের পক্ষে এবং গণমানুষের অধিকার আদায়ে তার অবদানের কথা স্মরণ করেন তিনি।
মাদানি লেখেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে আদর্শ, দেশের মানুষের প্রতি টান এবং সত্যের পক্ষে থাকা তার কাছে সবসময় বড়। নুরের সঙ্গে ব্যক্তিগত সখ্য থাকা সত্ত্বেও হাদির কবর নিয়ে এমন সমালোচনা তিনি মেনে নিতে পারেননি।
নুরের ‘হু ইজ হাদি?’ প্রশ্নের জবাবে মাদানি লেখেন, হাদি ছিলেন জাতির ঘুমন্ত দেশপ্রেমিক তরুণদের জাগিয়ে তোলার ‘হেমিলিওনের বাঁশিওয়ালা’। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে শিকল ভাঙার ডাক এবং কৃষক, শ্রমিক, আলেম-ওলামা ও দিনমজুরের চোখের জলের প্রতীক ছিলেন তিনি।
তিনি আরও লেখেন, হাদি ছিলেন শত্রুর সঙ্গেও ইনসাফের কথা বলা হার না-মানা তারুণ্যের প্রতীক। নিরীহ মানুষের ওপর জুলুম দেখে বিদ্রোহে ফেটে পড়া এক মহাকাব্যিক কবি ছিলেন তিনি। একসময় নুরের দুর্দিনেও হাদি তার পক্ষে প্রতিবাদ করেছিলেন উল্লেখ করে মাদানি বলেন, সেই মানুষটির মৃত্যুর পর তার কবরের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তোলা চরম অকৃতজ্ঞতা।
নুরুল হক নুরকে উদ্দেশ করে মাদানি আরও বলেন, আঘাত পেয়ে মানুষের ভালোবাসা নিয়ে উঁচুতে উঠলেও ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে তিনি এখন আবোলতাবোল বলছেন। একসময় মানুষ নুরকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভাবলেও বর্তমানে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে হতাশা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি নুরের দলের লোকজনের মধ্যেও হতাশা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন এই ইসলামী বক্তা।
পোস্টে মাদানি অভিযোগ করেন, জনরোষের ভয়ে বিএনপিতে ঘাপটি মেরে থাকা ব্যক্তিরা কৌশলে নুর ও রাশেদকে ব্যবহার করছেন। টাকা ও ক্ষমতার লোভে এ ধরনের স্পর্শকাতর মন্তব্য করে তারা নিজেদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে ঝুঁকির মুখে ফেলছেন বলেও সতর্ক করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে মাদানি বলেন, ক্ষমতা ও অর্থ সাময়িক। মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে হলে মানুষের জন্য রাজপথে দাঁড়িয়ে জীবন বাজি রাখতে হয়। হাদি নিজের জীবন দিয়ে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছেন। অন্যদিকে ক্ষমতার মোহে পড়ে নুর সেই ভালোবাসা হারাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কোন মন্তব্য নেই।