সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
Sokaler Bangladesh

নবীনবরণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, অতঃপর...


সকালের বাংলাদেশ
সকালের বাংলাদেশ
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

নবীনবরণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, অতঃপর...

বরগুনার আমতলী উপজেলায় ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চার শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকিরের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) তার নির্দেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের তুলে এনে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এ নির্যাতন চালানো হয় বলে ওই শিক্ষার্থীদের পরিবারের অভিযোগ। রাত ৯টার দিকে তাদের আমতলী থানায় সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে আমতলী উপজেলার মহিষকাটা ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও আনন্দ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকির। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব তুহিন মৃধা, বরগুনা দ্বিতীয় জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন ও আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি মো. মাহবুবুল আলমসহ অতিথিরা।

জানা গেছে, প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষ হতে না হতেই অনুষ্ঠানের কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। ওই অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের ভিডিও মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ক্ষুব্ধ হন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জালাল উদ্দীন ফকির।

এ ঘটনার জেরে শুক্রবার দুপুরে কলেজের সামনে থেকে জালাল ফকিরের নির্দেশে ছাত্রদল-যুবদলের নেতাকর্মীরা ইউনুস আলী খাঁন কলেজ শাখার কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল কাজী ও নবীন শিক্ষার্থী সুজাকে আমতলী বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে তুলে নেন। তিন ঘণ্টা পর জুমার নামাজ শেষে চুনাখালী মসজিদের সামনে থেকে মো. আসিফ ও মো. তামিমকে বিএনপির নেতাকর্মীরা তুলে নেন বলে অভিযোগ করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শীরা।

তাদের দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে দিনভর আটকে রেখে জালাল উদ্দীন ফকিরের উপস্থিতিতে নির্যাতন চালানো হয় বলে দাবি আসিফের পরিবারের। ওই দিন রাত ৯টার দিকে তাদের বিএনপি কার্যালয় থেকে আমতলী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। কলেজশিক্ষার্থীদের তুলে নিয়ে নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, কলেজ ও মসজিদের সামনে থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা এসে ছাত্রদের তুলে নিয়ে গেছেন। ওই সময় পুলিশও উপস্থিত ছিল, কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল কাজীর বাবা মো. মাহবুব কাজী বলেন, আমার ছেলেকে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী মহিষকাটা থেকে তুলে নিয়েছে।

ইউনুস আলী খাঁন কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকারিয়া বলেন, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মাহবুব ও জালাল ফকিরের ছেলে ফাহাদ ফকিরের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা সাইফুল কাজী ও সুজা নামের দুই ছাত্রকে তুলে নিয়েছেন।

আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকির ছাত্রদের নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দলীয় নেতাকর্মীরা ওদের এনে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না এবং কাদের ইন্ধনে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ওদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে থানায় সোপর্দ করা হয়েছ।

এ বিষয়ে আমতলী থানার ওসি মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, চারজনকে গ্রেফতার করে থানায় আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ আইনে মামলা করা হয়। শনিবার তাদের আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।


ইম

বিষয় : জয়বাংলা

আপনার মতামত লিখুন

কোন মন্তব্য নেই।

মতামত দিন
Sokaler Bangladesh

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


নবীনবরণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, অতঃপর...

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বরগুনার আমতলী উপজেলায় ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চার শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকিরের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) তার নির্দেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের তুলে এনে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এ নির্যাতন চালানো হয় বলে ওই শিক্ষার্থীদের পরিবারের অভিযোগ। রাত ৯টার দিকে তাদের আমতলী থানায় সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে আমতলী উপজেলার মহিষকাটা ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও আনন্দ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকির। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব তুহিন মৃধা, বরগুনা দ্বিতীয় জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন ও আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি মো. মাহবুবুল আলমসহ অতিথিরা।

জানা গেছে, প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষ হতে না হতেই অনুষ্ঠানের কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। ওই অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের ভিডিও মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ক্ষুব্ধ হন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জালাল উদ্দীন ফকির।

এ ঘটনার জেরে শুক্রবার দুপুরে কলেজের সামনে থেকে জালাল ফকিরের নির্দেশে ছাত্রদল-যুবদলের নেতাকর্মীরা ইউনুস আলী খাঁন কলেজ শাখার কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল কাজী ও নবীন শিক্ষার্থী সুজাকে আমতলী বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে তুলে নেন। তিন ঘণ্টা পর জুমার নামাজ শেষে চুনাখালী মসজিদের সামনে থেকে মো. আসিফ ও মো. তামিমকে বিএনপির নেতাকর্মীরা তুলে নেন বলে অভিযোগ করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শীরা।

তাদের দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে দিনভর আটকে রেখে জালাল উদ্দীন ফকিরের উপস্থিতিতে নির্যাতন চালানো হয় বলে দাবি আসিফের পরিবারের। ওই দিন রাত ৯টার দিকে তাদের বিএনপি কার্যালয় থেকে আমতলী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। কলেজশিক্ষার্থীদের তুলে নিয়ে নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, কলেজ ও মসজিদের সামনে থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা এসে ছাত্রদের তুলে নিয়ে গেছেন। ওই সময় পুলিশও উপস্থিত ছিল, কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল কাজীর বাবা মো. মাহবুব কাজী বলেন, আমার ছেলেকে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী মহিষকাটা থেকে তুলে নিয়েছে।

ইউনুস আলী খাঁন কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকারিয়া বলেন, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মাহবুব ও জালাল ফকিরের ছেলে ফাহাদ ফকিরের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা সাইফুল কাজী ও সুজা নামের দুই ছাত্রকে তুলে নিয়েছেন।

আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকির ছাত্রদের নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দলীয় নেতাকর্মীরা ওদের এনে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না এবং কাদের ইন্ধনে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ওদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে থানায় সোপর্দ করা হয়েছ।

এ বিষয়ে আমতলী থানার ওসি মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, চারজনকে গ্রেফতার করে থানায় আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ আইনে মামলা করা হয়। শনিবার তাদের আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।


ইম


Sokaler Bangladesh

সম্পাদক ও প্রকাশক- রবিউল ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৬ Sokaler Bangladesh । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত