মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
Sokaler Bangladesh

‎বিশ্ববাজারে ছাড়বে ১৮ লাখ টন, দাম কমার আশা ট্রাম্পের

ডিজেল সরবরাহে পুতিন-ট্রাম্প চুক্তি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডিজেল সরবরাহে পুতিন-ট্রাম্প চুক্তি

বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়াতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়া অবিলম্বে তিন লাখ টন ডিজেল বাজারে ছাড়বে। নভেম্বরে সরবরাহ করা হবে আরও পাঁচ লাখ টন। পরবর্তী সময়ে যুক্ত হবে আরও ১০ লাখ টন। এই উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে ডিজেলের দাম দ্রুত কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প।

‎সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘আমেরিকানদের জন্য এবং প্রকৃতপক্ষে গোটা বিশ্বের জন্য ডিজেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে, দ্রুত কমতে থাকবে।’ তাঁর ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় রাশিয়ার ডিজেল বাজারে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে একটি অস্থায়ী লাইসেন্স জারি করে।

‎ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর গত ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম দ্বিগুণ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধিতে দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক চাপে পড়েছে রিপাবলিকান দল।

‎আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৬ দশমিক ২৮ ডলার। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এই দাম বেড়ে রেকর্ড ৬ দশমিক ৫৩ ডলারে পৌঁছেছিল।

‎এদিকে পুতিনের দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ডিজেল ও জ্বালানি খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বিশ্ববাসীর জন্য উপকারী হবে।

‎তবে চুক্তির বিরোধিতা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর আশঙ্কা, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে দেশটিকে জ্বালানি বিক্রির সুযোগ দেওয়া হলে মস্কোই বেশি লাভবান হবে। এতে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। জেলেনস্কির ভাষায়, ‘পুতিনকে উপহার দিলে শান্তি আসবে না।’ তাঁর অভিযোগ, ডিজেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ রাশিয়া আরও ‘সন্ত্রাস’ চালাতে ব্যবহার করতে পারে।

‎অন্যদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়ায় ডিজেল উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রুশ ডিজেল বিশ্ববাজারে প্রবেশের সুযোগ পেলে সরবরাহ ও দামের ওপর কী প্রভাব পড়ে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

‎

বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র

আপনার মতামত লিখুন

কোন মন্তব্য নেই।

মতামত দিন
Sokaler Bangladesh

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


ডিজেল সরবরাহে পুতিন-ট্রাম্প চুক্তি

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়াতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়া অবিলম্বে তিন লাখ টন ডিজেল বাজারে ছাড়বে। নভেম্বরে সরবরাহ করা হবে আরও পাঁচ লাখ টন। পরবর্তী সময়ে যুক্ত হবে আরও ১০ লাখ টন। এই উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে ডিজেলের দাম দ্রুত কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প।

‎সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘আমেরিকানদের জন্য এবং প্রকৃতপক্ষে গোটা বিশ্বের জন্য ডিজেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে, দ্রুত কমতে থাকবে।’ তাঁর ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় রাশিয়ার ডিজেল বাজারে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে একটি অস্থায়ী লাইসেন্স জারি করে।

‎ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর গত ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম দ্বিগুণ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধিতে দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক চাপে পড়েছে রিপাবলিকান দল।

‎আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৬ দশমিক ২৮ ডলার। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এই দাম বেড়ে রেকর্ড ৬ দশমিক ৫৩ ডলারে পৌঁছেছিল।

‎এদিকে পুতিনের দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ডিজেল ও জ্বালানি খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বিশ্ববাসীর জন্য উপকারী হবে।

‎তবে চুক্তির বিরোধিতা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর আশঙ্কা, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে দেশটিকে জ্বালানি বিক্রির সুযোগ দেওয়া হলে মস্কোই বেশি লাভবান হবে। এতে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। জেলেনস্কির ভাষায়, ‘পুতিনকে উপহার দিলে শান্তি আসবে না।’ তাঁর অভিযোগ, ডিজেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ রাশিয়া আরও ‘সন্ত্রাস’ চালাতে ব্যবহার করতে পারে।

‎অন্যদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়ায় ডিজেল উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রুশ ডিজেল বিশ্ববাজারে প্রবেশের সুযোগ পেলে সরবরাহ ও দামের ওপর কী প্রভাব পড়ে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

‎


Sokaler Bangladesh

সম্পাদক ও প্রকাশক- রবিউল ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৬ Sokaler Bangladesh । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত