সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
Sokaler Bangladesh

মিয়ানমারের স্বৈরশাসককে স্বাগত জানাল মালয়েশিয়া


সকালের বাংলাদেশ
সকালের বাংলাদেশ
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমারের স্বৈরশাসককে স্বাগত জানাল মালয়েশিয়া

অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারকে গৃহযুদ্ধে ঠেলে দেওয়ার পাঁচ বছর পর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির আশায় বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উ মিন অং হ্লাইং।

সম্প্রতি তিনি রাশিয়া, চীন, ভারত, বেলারুশ, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও লাওস সফর করেছেন। দু’দেশের আলোচনায় মূলত প্রত্যাবাসন ও বিনিয়োগের বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়। দ্য হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে একটি গণহত্যা মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং আগামী মাসগুলোতে এ বিষয়ে রায় প্রত্যাশা করা হচ্ছে।প্রেসিডেন্ট হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট ‘আসিয়ান’-এর পাঁচটি দেশ সফর করলেও, মিন অং হ্লাইংয়ের ওপর আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।

সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘অ্যাকলেড’ মিয়ানমারকে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছে; সংঘাতের তীব্রতার দিক থেকে কেবলমাত্র ফিলিস্তিনি ভূখ-ই এর চেয়ে এগিয়ে। গত সপ্তাহে পশ্চিম মিয়ানমারের একটি বাজাওে দেশটির সামরিক বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে।সেনাবাহিনী প্রধানের পদ থেকে অবসরের পর এবং ব্যাপক সমালোচিত এক নির্বাচনেরÑযেখানে সামরিক-সমর্থিত দলের কার্যত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না, পরবর্তী সময়ে গত এপ্রিলে মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট হন।

বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সামরিক হামলা অব্যাহত রয়েছে। আনোয়ার বলেছেন, “দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের চমৎকার সম্পর্ক বজায় রয়েছে।” এদিকে, অভিবাসীদের প্রতি বৈরী মনোভাবের মধ্যেই আনোয়ার ব্যাপক হারে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নিয়েছেন। রাখাইন রাজ্যেÑযার বড় একটি অংশ বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মিয়ানমান সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের আশঙ্কায় অভ্যুত্থানের পর থেকে অন্তত ১০ লাখ তরুণ-তরুণী দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। সশস্ত্র বিদ্রোহীরা দেশটির অর্ধেকেরও বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে, সেনাবাহিনী ৩৫ বছর বয়সী পুরুষ এবং ২৭ বছর বয়সী নারীদের বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দিচ্ছে।মিয়ানমারের ৩৪ বছর বয়সী মিন নিয়ান তুন জানান, মালয়েশিয়া তাকে তিনবার ফেরত পাঠিয়েছে।

তিনি বলেন, “মালয়েশিয়ায় আবারও গ্রেপ্তার হওয়া এবং যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠানো, এই দুটির মধ্যে কোনো একটি বেছে নিতে হলে আমি মালয়েশিয়ায় ফিরে যাওয়াকেই বেছে নেব। আমি সম্মুখসারিতে গিয়ে সামরিক সরকারের জন্য জীবন দিতে পারব না।”

মালয়েশিয়ায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার কাছে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার মিয়ানমারের শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী নিবন্ধিত রয়েছেন; এদের মধ্যে নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমরাও অন্তর্ভুক্ত। মিন অং হ্লাইং বলেছেন, মিয়ানমার কেবল যাদেরকে মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে, তাদেরকেই ফিরিয়ে নেবে। তাঁর সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। এই সফরটি শেষ হয়েছে একটি রাষ্ট্রীয় মধ্যাহ্নভোজের মধ্য দিয়ে, যেখানে পরিবেশন করা হয় ভেড়ার মাংস, বড় আকারের চিংড়ি এবং পনির ও প্যাশন ফ্রুট পুডিং, যেখানে জাতিসংঘের তথ্যমতে, মিয়ানমারের প্রতি তিনজন মানুষের মধ্যে একজনের পর্যাপ্ত খাবারের অভাব রয়েছে।সূত্র: রয়টার্স,


ইম 

বিষয় : আন্তর্জাতিক গবেষণা

আপনার মতামত লিখুন

কোন মন্তব্য নেই।

মতামত দিন
Sokaler Bangladesh

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


মিয়ানমারের স্বৈরশাসককে স্বাগত জানাল মালয়েশিয়া

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারকে গৃহযুদ্ধে ঠেলে দেওয়ার পাঁচ বছর পর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির আশায় বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উ মিন অং হ্লাইং।

সম্প্রতি তিনি রাশিয়া, চীন, ভারত, বেলারুশ, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও লাওস সফর করেছেন। দু’দেশের আলোচনায় মূলত প্রত্যাবাসন ও বিনিয়োগের বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়। দ্য হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে একটি গণহত্যা মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং আগামী মাসগুলোতে এ বিষয়ে রায় প্রত্যাশা করা হচ্ছে।প্রেসিডেন্ট হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট ‘আসিয়ান’-এর পাঁচটি দেশ সফর করলেও, মিন অং হ্লাইংয়ের ওপর আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।

সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘অ্যাকলেড’ মিয়ানমারকে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছে; সংঘাতের তীব্রতার দিক থেকে কেবলমাত্র ফিলিস্তিনি ভূখ-ই এর চেয়ে এগিয়ে। গত সপ্তাহে পশ্চিম মিয়ানমারের একটি বাজাওে দেশটির সামরিক বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে।সেনাবাহিনী প্রধানের পদ থেকে অবসরের পর এবং ব্যাপক সমালোচিত এক নির্বাচনেরÑযেখানে সামরিক-সমর্থিত দলের কার্যত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না, পরবর্তী সময়ে গত এপ্রিলে মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট হন।

বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সামরিক হামলা অব্যাহত রয়েছে। আনোয়ার বলেছেন, “দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের চমৎকার সম্পর্ক বজায় রয়েছে।” এদিকে, অভিবাসীদের প্রতি বৈরী মনোভাবের মধ্যেই আনোয়ার ব্যাপক হারে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নিয়েছেন। রাখাইন রাজ্যেÑযার বড় একটি অংশ বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মিয়ানমান সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের আশঙ্কায় অভ্যুত্থানের পর থেকে অন্তত ১০ লাখ তরুণ-তরুণী দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। সশস্ত্র বিদ্রোহীরা দেশটির অর্ধেকেরও বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে, সেনাবাহিনী ৩৫ বছর বয়সী পুরুষ এবং ২৭ বছর বয়সী নারীদের বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দিচ্ছে।মিয়ানমারের ৩৪ বছর বয়সী মিন নিয়ান তুন জানান, মালয়েশিয়া তাকে তিনবার ফেরত পাঠিয়েছে।

তিনি বলেন, “মালয়েশিয়ায় আবারও গ্রেপ্তার হওয়া এবং যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠানো, এই দুটির মধ্যে কোনো একটি বেছে নিতে হলে আমি মালয়েশিয়ায় ফিরে যাওয়াকেই বেছে নেব। আমি সম্মুখসারিতে গিয়ে সামরিক সরকারের জন্য জীবন দিতে পারব না।”

মালয়েশিয়ায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার কাছে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার মিয়ানমারের শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী নিবন্ধিত রয়েছেন; এদের মধ্যে নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমরাও অন্তর্ভুক্ত। মিন অং হ্লাইং বলেছেন, মিয়ানমার কেবল যাদেরকে মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে, তাদেরকেই ফিরিয়ে নেবে। তাঁর সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। এই সফরটি শেষ হয়েছে একটি রাষ্ট্রীয় মধ্যাহ্নভোজের মধ্য দিয়ে, যেখানে পরিবেশন করা হয় ভেড়ার মাংস, বড় আকারের চিংড়ি এবং পনির ও প্যাশন ফ্রুট পুডিং, যেখানে জাতিসংঘের তথ্যমতে, মিয়ানমারের প্রতি তিনজন মানুষের মধ্যে একজনের পর্যাপ্ত খাবারের অভাব রয়েছে।সূত্র: রয়টার্স,


ইম 


Sokaler Bangladesh

সম্পাদক ও প্রকাশক- রবিউল ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৬ Sokaler Bangladesh । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত