মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
Sokaler Bangladesh

দাফনের আগে বাবার ঋণ শোধ করল শিশু, কাঁদতে কাঁদতে বলল ‘সবাই মাফ করে দেন’



দাফনের আগে বাবার ঋণ শোধ করল শিশু, কাঁদতে কাঁদতে বলল ‘সবাই মাফ করে দেন’

দাফনের আগে মৃত বাবার মরদেহ সামনে রেখে পাওনাদারদের ঋণ পরিশোধ করেছে তার শিশুসন্তান। এ সময় বাবার কাছে আরও কোনো ঋণ বা দাবি বাকি থাকলে তা জানিয়ে দেওয়ার জন্য উপস্থিত লোকজনের প্রতি অনুরোধ জানায় দুই শিশু। হৃদয়স্পর্শী এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

উম্মে হুমায়রা কানিজ ফাতেমা নামের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজে গত ১০ সেপ্টেম্বর ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে তিনি জানান, আলী আকবার নামে ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। প্রায় আট মাস ধরে তার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তার জন্য একটি ঘরও করে দেওয়া হয়েছিল। পরে অসুস্থ অবস্থায় তিনি মারা যান।

ভিডিওতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর বলেন, ‘আমি এভাবে আসলে কখনো ভিডিও নিতে হবে, আমি ভাবি নাই; আমার গা কাঁপছে। এই যে, আমার পাশে দেখছেন একটি বাচ্চা; এর বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিল। তো আমার আট মাস প্রায় আমি দেখেছি, একটি ঘরও করে দিয়েছি; তো আল্লাহর ডাকে উনি (আলী আকবর) গতকাল রাতে মারা গেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ দুই ঘণ্টা আগে আমি আসি উনার দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করার জন্য। আসার পরে শুনি, উনার কাছে ধার পাবে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। এই দুই ঘণ্টার মধ্যে ৬০ হাজার টাকা জোগাড় করতে না পারলেও আমি ৫০ হাজার টাকা জোগাড় করে লাশ সামনে রেখে তার এতিম শিশুর হাতে তুলে দিব ধারের টাকাটা।’

এ সময় পাশে থাকা এক হুজুরকে মৃত ব্যক্তির মরদেহ সামনে রেখে এভাবে ঋণ পরিশোধের ঘটনা আগে দেখেছেন কি না জানতে চান ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটর। জবাবে তিনি বলেন, এমন ঘটনা তিনি আগে দেখেননি। সাধারণত জানাজার মাঠে মৃত ব্যক্তির কাছে কেউ কর্জ বা ধার পাবে কি না, তা প্রকাশ করা হতো এবং পরে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে লেনদেন পরিশোধ করা হতো।

ভিডিওতে মৃত আলী আকবারের শিশুসন্তানকে বাবার ঋণ পরিশোধের কথা বলতে দেখা যায়। কনটেন্ট ক্রিয়েটর তার হাতে টাকা তুলে দিলে শিশুটি তা হুজুরের হাতে দিয়ে বলে, ‘আমার বাবা কবরে যাওয়ার আগে আমি সব টাকা শোধ করে দিছি। আমার বাবাকে সবাই মাফ করে দেন।’

এরপর একে একে পাওনাদারদের কাছে পাওনা টাকার পরিমাণ জানতে চাওয়া হয়। একজনের পাওনা ২৫ হাজার, আরেকজনের ১০ হাজার এবং আরেকজনের ১২ হাজার ৯৬৮ টাকা বলে জানানো হয়। ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটর জানান, একজনের ১২ হাজার ৯৬৮ টাকা পাওনার মধ্যে ১০ হাজার টাকা বিকাশে পরিশোধ করা হয়েছে এবং বাকি ২ হাজার টাকা মাফ করে দেওয়া হয়েছে।

পরে তিনি জানান, উপস্থিত লোকজনের সামনে চারজনের ধার পরিশোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনের ২৫ হাজার, একজনের ১০ হাজার, একজনের ২ হাজার এবং আরেকজনের ১০ হাজার টাকা রয়েছে। তবে মৃত ব্যক্তির দোকানে আরও কিছু পাওনা থাকার কথাও একজন জানান।

সবশেষে মৃত ব্যক্তির সন্তানরা উপস্থিত সবার কাছে বাবার কোনো ভুল বা ক্ষতি হয়ে থাকলে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মৃত ব্যক্তির মেয়ে বলেন, ‘আমার বাবা কারও ক্ষতি করে থাকলে, আপনারা মাফ করে দিয়েন। আমার বাবা আর কোনদিন আপনাদের থেকে মাফ চাইতে পারবে না। আমরা লাশ সামনে রেখে রেখে ধার শোধ করে দিছি। আপনারা সবাই মাফ করে দিবেন।’

মৃত ব্যক্তির মরদেহ সামনে রেখে ঋণ পরিশোধ এবং সন্তানদের কান্নাজড়িত বক্তব্যের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ভিডিওটি নিজের ফেসবুক পেজেও শেয়ার করেন উম্মে হুমায়রা কানিজ ফাতেমা।

পোস্টটির মন্তব্যে আজিজুর রহমান নামে একজন লেখেন, ‘জঙ্গলের পশুগুলো আমাদের থেকে ভালো আছে। টাকাই সবকিছুর মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই এলাকার সমাজের মনে হয় কোনো মানুষ নাই।’ একই সঙ্গে কনটেন্ট ক্রিয়েটরের প্রশংসা করে তিনি লেখেন, ‘বোন আপনি যেভাবে ওই বাচ্চাগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন মহান রাব্বুল আলামিন যেন আপনার মঙ্গল করেন।’

মো. শফিকুল ইসলাম নামে একজন মন্তব্য করেন, ‘জীবনে অনেক ভিডিও করছি এবং অনেক ভিডিও দেখছি; কিন্তু এমন ভিডিও আমি কখনোই দেখিনি।’ আনিসুর রহমান লেখেন, ‘আহারে! টাকা দিয়ে মানুষ কবরে যাবে।’

বিষয় : শিশুসন্তান ভিডিও ভাইরাল

আপনার মতামত লিখুন

কোন মন্তব্য নেই।

মতামত দিন
Sokaler Bangladesh

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


দাফনের আগে বাবার ঋণ শোধ করল শিশু, কাঁদতে কাঁদতে বলল ‘সবাই মাফ করে দেন’

প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দাফনের আগে মৃত বাবার মরদেহ সামনে রেখে পাওনাদারদের ঋণ পরিশোধ করেছে তার শিশুসন্তান। এ সময় বাবার কাছে আরও কোনো ঋণ বা দাবি বাকি থাকলে তা জানিয়ে দেওয়ার জন্য উপস্থিত লোকজনের প্রতি অনুরোধ জানায় দুই শিশু। হৃদয়স্পর্শী এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

উম্মে হুমায়রা কানিজ ফাতেমা নামের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজে গত ১০ সেপ্টেম্বর ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে তিনি জানান, আলী আকবার নামে ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। প্রায় আট মাস ধরে তার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তার জন্য একটি ঘরও করে দেওয়া হয়েছিল। পরে অসুস্থ অবস্থায় তিনি মারা যান।

ভিডিওতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর বলেন, ‘আমি এভাবে আসলে কখনো ভিডিও নিতে হবে, আমি ভাবি নাই; আমার গা কাঁপছে। এই যে, আমার পাশে দেখছেন একটি বাচ্চা; এর বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিল। তো আমার আট মাস প্রায় আমি দেখেছি, একটি ঘরও করে দিয়েছি; তো আল্লাহর ডাকে উনি (আলী আকবর) গতকাল রাতে মারা গেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ দুই ঘণ্টা আগে আমি আসি উনার দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করার জন্য। আসার পরে শুনি, উনার কাছে ধার পাবে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। এই দুই ঘণ্টার মধ্যে ৬০ হাজার টাকা জোগাড় করতে না পারলেও আমি ৫০ হাজার টাকা জোগাড় করে লাশ সামনে রেখে তার এতিম শিশুর হাতে তুলে দিব ধারের টাকাটা।’

এ সময় পাশে থাকা এক হুজুরকে মৃত ব্যক্তির মরদেহ সামনে রেখে এভাবে ঋণ পরিশোধের ঘটনা আগে দেখেছেন কি না জানতে চান ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটর। জবাবে তিনি বলেন, এমন ঘটনা তিনি আগে দেখেননি। সাধারণত জানাজার মাঠে মৃত ব্যক্তির কাছে কেউ কর্জ বা ধার পাবে কি না, তা প্রকাশ করা হতো এবং পরে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে লেনদেন পরিশোধ করা হতো।

ভিডিওতে মৃত আলী আকবারের শিশুসন্তানকে বাবার ঋণ পরিশোধের কথা বলতে দেখা যায়। কনটেন্ট ক্রিয়েটর তার হাতে টাকা তুলে দিলে শিশুটি তা হুজুরের হাতে দিয়ে বলে, ‘আমার বাবা কবরে যাওয়ার আগে আমি সব টাকা শোধ করে দিছি। আমার বাবাকে সবাই মাফ করে দেন।’

এরপর একে একে পাওনাদারদের কাছে পাওনা টাকার পরিমাণ জানতে চাওয়া হয়। একজনের পাওনা ২৫ হাজার, আরেকজনের ১০ হাজার এবং আরেকজনের ১২ হাজার ৯৬৮ টাকা বলে জানানো হয়। ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটর জানান, একজনের ১২ হাজার ৯৬৮ টাকা পাওনার মধ্যে ১০ হাজার টাকা বিকাশে পরিশোধ করা হয়েছে এবং বাকি ২ হাজার টাকা মাফ করে দেওয়া হয়েছে।

পরে তিনি জানান, উপস্থিত লোকজনের সামনে চারজনের ধার পরিশোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনের ২৫ হাজার, একজনের ১০ হাজার, একজনের ২ হাজার এবং আরেকজনের ১০ হাজার টাকা রয়েছে। তবে মৃত ব্যক্তির দোকানে আরও কিছু পাওনা থাকার কথাও একজন জানান।

সবশেষে মৃত ব্যক্তির সন্তানরা উপস্থিত সবার কাছে বাবার কোনো ভুল বা ক্ষতি হয়ে থাকলে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মৃত ব্যক্তির মেয়ে বলেন, ‘আমার বাবা কারও ক্ষতি করে থাকলে, আপনারা মাফ করে দিয়েন। আমার বাবা আর কোনদিন আপনাদের থেকে মাফ চাইতে পারবে না। আমরা লাশ সামনে রেখে রেখে ধার শোধ করে দিছি। আপনারা সবাই মাফ করে দিবেন।’

মৃত ব্যক্তির মরদেহ সামনে রেখে ঋণ পরিশোধ এবং সন্তানদের কান্নাজড়িত বক্তব্যের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ভিডিওটি নিজের ফেসবুক পেজেও শেয়ার করেন উম্মে হুমায়রা কানিজ ফাতেমা।

পোস্টটির মন্তব্যে আজিজুর রহমান নামে একজন লেখেন, ‘জঙ্গলের পশুগুলো আমাদের থেকে ভালো আছে। টাকাই সবকিছুর মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই এলাকার সমাজের মনে হয় কোনো মানুষ নাই।’ একই সঙ্গে কনটেন্ট ক্রিয়েটরের প্রশংসা করে তিনি লেখেন, ‘বোন আপনি যেভাবে ওই বাচ্চাগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন মহান রাব্বুল আলামিন যেন আপনার মঙ্গল করেন।’

মো. শফিকুল ইসলাম নামে একজন মন্তব্য করেন, ‘জীবনে অনেক ভিডিও করছি এবং অনেক ভিডিও দেখছি; কিন্তু এমন ভিডিও আমি কখনোই দেখিনি।’ আনিসুর রহমান লেখেন, ‘আহারে! টাকা দিয়ে মানুষ কবরে যাবে।’


Sokaler Bangladesh

সম্পাদক ও প্রকাশক- রবিউল ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৬ Sokaler Bangladesh । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত