চুরির অপবাদে এক ব্যক্তিকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘উই আর বাংলাদেশ’ (ওয়াব)। ভিডিওটি দেখে ঘটনাটি যাচাই করতে বরিশালের উজিরপুরে ছুটে যান ওয়াবের স্বেচ্ছাসেবকেরা। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে উজিরপুর থানা পুলিশের সঙ্গেও কথা বলেছেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও পুলিশ সদস্য এস এম আকবর।
রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এস এম আকবর নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানান, ভিডিওটি দেখে তিনি নিজেকে স্থির রাখতে পারেননি। পরে তথ্য যাচাইয়ের জন্য ওয়াব বরিশাল টিমকে বিষয়টি জানান। এরপর স্বেচ্ছাসেবকেরা ওই পরিবারের খোঁজে যান।
ওয়াবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই ব্যক্তির নাম অনিক শিকদার। তার ছোট মেয়ে তুবার সঙ্গে কথা বলেছেন স্বেচ্ছাসেবকেরা। মেয়েটি তার বাবার জন্য একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
এস এম আকবরের ভাষ্য, অনিক শিকদারের বাবা একসময় সম্ভ্রান্ত পরিবারের মানুষ ছিলেন। অসুস্থ বাবার চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবারটি তাদের সবকিছু হারিয়েছে। একপর্যায়ে অনিক নেশায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। আকবরের দাবি, সেই সুযোগ নিয়েছে স্থানীয় একটি মাদক সিন্ডিকেট।
তবে অনিক শিকদারের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। ওয়াবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনিক নিজের ভুল-ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে ভালো ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান। তাকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন এস এম আকবর।
অটোভ্যান দেবে ওয়াব
গ্রামাঞ্চলে বসবাস করায় জীবিকা নির্বাহের জন্য অনিক একটি অটোভ্যান চেয়েছেন। তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে ওয়াব ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে একটি অটোভ্যান কিনে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এস এম আকবর। পাশাপাশি অনিকের মেয়ে তুবার লেখাপড়ার দায়িত্বও ওয়াব নিতে চায় বলে জানিয়েছেন তিনি।
আকবর বলেন, ‘ও খুবই মিষ্টি একটা মেয়ে। ও চাচ্ছে আমরা যেন ওর বাবাকে একটি কর্মসংস্থান করে দিই। অনিক শিকদার ভুল-ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে ভালো ও আলোর পথে ফিরে আসতে চায়। তাকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব নিয়েছি আমরা।’
ঘটনাটি নিয়ে উজিরপুর থানা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন এস এম আকবর। উজিরপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) ফারুকের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে বলে জানান তিনি। পুলিশ বিষয়টি সার্বিকভাবে দেখাশোনা করবে বলে আশ্বস্ত করেছে। আকবর জানান, পুলিশও দ্রুত ওই পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছে এবং ওয়াবের উদ্যোগের সঙ্গে একমত হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে মানবিক কাজ ওয়াবের
বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য এস এম আকবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘উই আর বাংলাদেশ’ (ওয়াব) প্রতিষ্ঠা করেন। মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, রক্তের ব্যবস্থা, চিকিৎসা ও আইনি পরামর্শ, সাইবার হয়রানির বিষয়ে সহযোগিতা এবং অসহায় মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সংগঠনটি কাজ করে আসছে।
বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওয়াবের নানা মানবিক কর্মকাণ্ডের তথ্য উঠে এসেছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে হাজার হাজার ব্যাগ রক্তের ব্যবস্থা, করোনাকালে অসহায় পরিবারকে খাদ্য সহায়তা এবং গৃহহীনদের ঘর তৈরিতে সহযোগিতা করার কথা জানানো হয়েছে।
এস এম আকবরের উদ্যোগে বিভিন্ন সময় অসহায় মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তার মতে, চাকরির পাশাপাশি মানুষের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা তিনি পেয়েছেন নিজের পরিবার থেকেই।
এবার অনিক শিকদারের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে ওয়াব। অটোভ্যানের মাধ্যমে অনিকের কর্মসংস্থান এবং মেয়ে তুবার পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার এই উদ্যোগে পরিবারটি নতুন করে আশার আলো দেখছে।

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চুরির অপবাদে এক ব্যক্তিকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘উই আর বাংলাদেশ’ (ওয়াব)। ভিডিওটি দেখে ঘটনাটি যাচাই করতে বরিশালের উজিরপুরে ছুটে যান ওয়াবের স্বেচ্ছাসেবকেরা। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে উজিরপুর থানা পুলিশের সঙ্গেও কথা বলেছেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও পুলিশ সদস্য এস এম আকবর।
রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এস এম আকবর নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানান, ভিডিওটি দেখে তিনি নিজেকে স্থির রাখতে পারেননি। পরে তথ্য যাচাইয়ের জন্য ওয়াব বরিশাল টিমকে বিষয়টি জানান। এরপর স্বেচ্ছাসেবকেরা ওই পরিবারের খোঁজে যান।
ওয়াবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই ব্যক্তির নাম অনিক শিকদার। তার ছোট মেয়ে তুবার সঙ্গে কথা বলেছেন স্বেচ্ছাসেবকেরা। মেয়েটি তার বাবার জন্য একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
এস এম আকবরের ভাষ্য, অনিক শিকদারের বাবা একসময় সম্ভ্রান্ত পরিবারের মানুষ ছিলেন। অসুস্থ বাবার চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবারটি তাদের সবকিছু হারিয়েছে। একপর্যায়ে অনিক নেশায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। আকবরের দাবি, সেই সুযোগ নিয়েছে স্থানীয় একটি মাদক সিন্ডিকেট।
তবে অনিক শিকদারের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। ওয়াবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনিক নিজের ভুল-ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে ভালো ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান। তাকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন এস এম আকবর।
অটোভ্যান দেবে ওয়াব
গ্রামাঞ্চলে বসবাস করায় জীবিকা নির্বাহের জন্য অনিক একটি অটোভ্যান চেয়েছেন। তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে ওয়াব ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে একটি অটোভ্যান কিনে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এস এম আকবর। পাশাপাশি অনিকের মেয়ে তুবার লেখাপড়ার দায়িত্বও ওয়াব নিতে চায় বলে জানিয়েছেন তিনি।
আকবর বলেন, ‘ও খুবই মিষ্টি একটা মেয়ে। ও চাচ্ছে আমরা যেন ওর বাবাকে একটি কর্মসংস্থান করে দিই। অনিক শিকদার ভুল-ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে ভালো ও আলোর পথে ফিরে আসতে চায়। তাকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব নিয়েছি আমরা।’
ঘটনাটি নিয়ে উজিরপুর থানা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন এস এম আকবর। উজিরপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) ফারুকের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে বলে জানান তিনি। পুলিশ বিষয়টি সার্বিকভাবে দেখাশোনা করবে বলে আশ্বস্ত করেছে। আকবর জানান, পুলিশও দ্রুত ওই পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছে এবং ওয়াবের উদ্যোগের সঙ্গে একমত হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে মানবিক কাজ ওয়াবের
বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য এস এম আকবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘উই আর বাংলাদেশ’ (ওয়াব) প্রতিষ্ঠা করেন। মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, রক্তের ব্যবস্থা, চিকিৎসা ও আইনি পরামর্শ, সাইবার হয়রানির বিষয়ে সহযোগিতা এবং অসহায় মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সংগঠনটি কাজ করে আসছে।
বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওয়াবের নানা মানবিক কর্মকাণ্ডের তথ্য উঠে এসেছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে হাজার হাজার ব্যাগ রক্তের ব্যবস্থা, করোনাকালে অসহায় পরিবারকে খাদ্য সহায়তা এবং গৃহহীনদের ঘর তৈরিতে সহযোগিতা করার কথা জানানো হয়েছে।
এস এম আকবরের উদ্যোগে বিভিন্ন সময় অসহায় মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তার মতে, চাকরির পাশাপাশি মানুষের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা তিনি পেয়েছেন নিজের পরিবার থেকেই।
এবার অনিক শিকদারের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে ওয়াব। অটোভ্যানের মাধ্যমে অনিকের কর্মসংস্থান এবং মেয়ে তুবার পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার এই উদ্যোগে পরিবারটি নতুন করে আশার আলো দেখছে।

কোন মন্তব্য নেই।