মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
Sokaler Bangladesh

২ হাজার পর্যটক আটকা

সাজেকে পর্যটকবাহী গাড়িবহর ছাড়ার পর গো'লাগু'লি


সকালের বাংলাদেশ
সকালের বাংলাদেশ
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাজেকে পর্যটকবাহী গাড়িবহর ছাড়ার পর গো'লাগু'লি

রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকের উজো বাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ গোলাগুলি শুরু হয়। এর আগে অবরোধের মধ্যে আটকে পড়া প্রায় দুই হাজার পর্যটক সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হলেও উজো বাজার এলাকায় বাধার মুখে পড়েন। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গোলাগুলি চলছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকেও একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোলাগুলি চলছিল। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

পুলিশের ভাষ্য, অবরোধের কারণে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় খাগড়াছড়ির উদ্দেশে পাঠানো হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তারা উজো বাজার এলাকায় পৌঁছালে অবরোধকারীদের বাধার মুখে পড়েন। অবরোধকারীরা সড়কে অবস্থান নেওয়ায় পর্যটকবাহী গাড়িবহর এগোতে পারছিল না। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা লাঠিপেটা করলে অবরোধকারীরা সরে যান।

এরপর বেলা ১১টার দিকে পর্যটকবাহী গাড়িবহর উজো বাজার এলাকা ছাড়ে। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পরই সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি শুরু হয়। 

সাজেকে পর্যটকবাহী যানবাহনের লাইনম্যান মো. ইয়াসিন বলেন, সাধারণত সকাল সাড়ে ১০টায় সাজেক থেকে পর্যটকবাহী গাড়ি খাগড়াছড়ির উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তবে অবরোধের কারণে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় গাড়ি ছাড়তে হয়েছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় প্রায় দুই হাজার পর্যটক সাজেক ছেড়েছেন।

সাজেক পর্যটন সড়কে তৃতীয় দফায় অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। বুধবার দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠন দুটি বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে বুধবারের মধ্যে সাজেক থেকে সব পর্যটককে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

অবরোধের পর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। বুধবার সন্ধ্যায় জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার মধ্যে সবাইকে নিরাপদে সাজেক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। 

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালে সাজেক ছাড়তে শুরু করেন পর্যটকেরা। তবে বের হওয়ার পরপরই উজো বাজার এলাকায় অবরোধের মুখে পড়েন তারা।

এর আগে গত ১৫ অক্টোবর সকাল ছয়টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করেন সংগঠন দুটির নেতাকর্মীরা। এ সময় সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার ও গাছের গুঁড়িতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। গত ১১ অক্টোবরও একই দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছিলেন অবরোধকারীরা।

তাদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেএসএস। সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়টি আড়াল করতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

অবরোধ ও পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের ঘোষণায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন সাজেকের পর্যটন ব্যবসায়ীরা। সাজেক রিসোর্ট কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, অবরোধের কারণে পর্যটকদের সাজেক ছেড়ে যেতে হচ্ছে। অনেকে রিসোর্টের আগাম বুকিং বাতিল করেছেন।

তিনি বলেন, সড়ক অবরোধের কারণে শুধু পর্যটক ও ব্যবসায়ীরাই নন, স্থানীয় বাসিন্দারাও ভোগান্তিতে পড়েন। খাদ্যসামগ্রী কেনাকাটা ব্যাহত হয়। 

এফএস

বিষয় : সাজেক

আপনার মতামত লিখুন

কোন মন্তব্য নেই।

মতামত দিন
Sokaler Bangladesh

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


সাজেকে পর্যটকবাহী গাড়িবহর ছাড়ার পর গো'লাগু'লি

প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকের উজো বাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ গোলাগুলি শুরু হয়। এর আগে অবরোধের মধ্যে আটকে পড়া প্রায় দুই হাজার পর্যটক সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হলেও উজো বাজার এলাকায় বাধার মুখে পড়েন। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গোলাগুলি চলছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকেও একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোলাগুলি চলছিল। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

পুলিশের ভাষ্য, অবরোধের কারণে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় খাগড়াছড়ির উদ্দেশে পাঠানো হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তারা উজো বাজার এলাকায় পৌঁছালে অবরোধকারীদের বাধার মুখে পড়েন। অবরোধকারীরা সড়কে অবস্থান নেওয়ায় পর্যটকবাহী গাড়িবহর এগোতে পারছিল না। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা লাঠিপেটা করলে অবরোধকারীরা সরে যান।

এরপর বেলা ১১টার দিকে পর্যটকবাহী গাড়িবহর উজো বাজার এলাকা ছাড়ে। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পরই সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি শুরু হয়। 

সাজেকে পর্যটকবাহী যানবাহনের লাইনম্যান মো. ইয়াসিন বলেন, সাধারণত সকাল সাড়ে ১০টায় সাজেক থেকে পর্যটকবাহী গাড়ি খাগড়াছড়ির উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তবে অবরোধের কারণে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় গাড়ি ছাড়তে হয়েছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় প্রায় দুই হাজার পর্যটক সাজেক ছেড়েছেন।

সাজেক পর্যটন সড়কে তৃতীয় দফায় অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। বুধবার দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠন দুটি বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে বুধবারের মধ্যে সাজেক থেকে সব পর্যটককে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

অবরোধের পর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। বুধবার সন্ধ্যায় জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার মধ্যে সবাইকে নিরাপদে সাজেক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। 

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালে সাজেক ছাড়তে শুরু করেন পর্যটকেরা। তবে বের হওয়ার পরপরই উজো বাজার এলাকায় অবরোধের মুখে পড়েন তারা।

এর আগে গত ১৫ অক্টোবর সকাল ছয়টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করেন সংগঠন দুটির নেতাকর্মীরা। এ সময় সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার ও গাছের গুঁড়িতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। গত ১১ অক্টোবরও একই দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছিলেন অবরোধকারীরা।

তাদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেএসএস। সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়টি আড়াল করতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

অবরোধ ও পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের ঘোষণায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন সাজেকের পর্যটন ব্যবসায়ীরা। সাজেক রিসোর্ট কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, অবরোধের কারণে পর্যটকদের সাজেক ছেড়ে যেতে হচ্ছে। অনেকে রিসোর্টের আগাম বুকিং বাতিল করেছেন।

তিনি বলেন, সড়ক অবরোধের কারণে শুধু পর্যটক ও ব্যবসায়ীরাই নন, স্থানীয় বাসিন্দারাও ভোগান্তিতে পড়েন। খাদ্যসামগ্রী কেনাকাটা ব্যাহত হয়। 

এফএস


Sokaler Bangladesh

সম্পাদক ও প্রকাশক- রবিউল ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৬ Sokaler Bangladesh । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত