সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নাজরান এলাকায় একটি এএইচ-৬আই গোয়েন্দা হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। যান্ত্রিক ত্রুটিকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে এর আগেই হুতি বিদ্রোহীরা দাবি করেছিল, তাদের হামলায় সৌদি আরবের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হয়েছে। ফলে হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনা ঘিরে সৌদি জোট ও হুতিদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে এসেছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত ও দুই ক্রুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সৌদি ন্যাশনাল গার্ড মন্ত্রণালয়ের অধিক্ষেত্রভুক্ত একটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে যান্ত্রিক ত্রুটিকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, নাজরানের কাছে সৌদি আরবের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে তাদের বাহিনী। তাঁর ভাষ্য, সীমান্তবর্তী এলাকায় হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে ‘শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড’ চালানোর সময় হেলিকপ্টারটিকে গুলি করে নামানো হয়।
হুতিদের এ দাবির জবাবে রোববার আল-মালিকি কয়েকটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার সারিবদ্ধভাবে রাখা একটি ছবি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা দাবি করছ, হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করেছ। কিন্তু এটি শিগগিরই আবার যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরবে।’ তাঁর এ বক্তব্যে হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার দাবি নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নাজরান অঞ্চলে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলা বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইয়েমেনভিত্তিক এ সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সংঘাতও নতুন করে তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে।
ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের সংঘাত আঞ্চলিক উত্তেজনার সঙ্গে আরও জড়িয়ে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ইরানবিরোধী যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এ সংঘাত নতুন রণাঙ্গনে পরিণত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। নাজরানে হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনা সেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় এনেছে। তবে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে সৌদি জোটের বক্তব্য এবং হুতিদের ভূপাতিত করার দাবি এখনো পরস্পরবিরোধী।
বিষয় : সৌদি আরব

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬
সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নাজরান এলাকায় একটি এএইচ-৬আই গোয়েন্দা হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। যান্ত্রিক ত্রুটিকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে এর আগেই হুতি বিদ্রোহীরা দাবি করেছিল, তাদের হামলায় সৌদি আরবের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হয়েছে। ফলে হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনা ঘিরে সৌদি জোট ও হুতিদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে এসেছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত ও দুই ক্রুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সৌদি ন্যাশনাল গার্ড মন্ত্রণালয়ের অধিক্ষেত্রভুক্ত একটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে যান্ত্রিক ত্রুটিকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, নাজরানের কাছে সৌদি আরবের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে তাদের বাহিনী। তাঁর ভাষ্য, সীমান্তবর্তী এলাকায় হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে ‘শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড’ চালানোর সময় হেলিকপ্টারটিকে গুলি করে নামানো হয়।
হুতিদের এ দাবির জবাবে রোববার আল-মালিকি কয়েকটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার সারিবদ্ধভাবে রাখা একটি ছবি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা দাবি করছ, হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করেছ। কিন্তু এটি শিগগিরই আবার যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরবে।’ তাঁর এ বক্তব্যে হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার দাবি নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নাজরান অঞ্চলে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলা বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইয়েমেনভিত্তিক এ সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সংঘাতও নতুন করে তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে।
ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের সংঘাত আঞ্চলিক উত্তেজনার সঙ্গে আরও জড়িয়ে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ইরানবিরোধী যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এ সংঘাত নতুন রণাঙ্গনে পরিণত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। নাজরানে হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনা সেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় এনেছে। তবে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে সৌদি জোটের বক্তব্য এবং হুতিদের ভূপাতিত করার দাবি এখনো পরস্পরবিরোধী।

কোন মন্তব্য নেই।