মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
Sokaler Bangladesh

শোক মোদি-মমতার

কলকাতার দুর্গাপূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

কলকাতার দুর্গাপূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু


‎
‎ভারী বৃষ্টি আর মণ্ডপে প্রবেশের হুড়োহুড়ি—উৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নিল মৃত্যুর মিছিলে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় দুর্গাপূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রত্যেকের নিকটাত্মীয়কে দুই লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন মোদি।
‎
‎শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক থানার আওতাধীন চোরবাগান এলাকার সারদা পার্কে একটি সর্বজনীন দুর্গাপূজামণ্ডপের প্রবেশপথে এ পদদলনের ঘটনা ঘটে। কলকাতা পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আহতদের উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হয়।
‎
‎প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে মণ্ডপের বাইরে অপেক্ষমাণ দর্শনার্থীরা ভেতরে প্রবেশের জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করেন। এ সময় কয়েকজন সড়কে পড়ে গেলে তাদের ওপর দিয়ে অন্য দর্শনার্থীরা এগিয়ে যাওয়ায় পদদলনের ঘটনা ঘটে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
‎
‎পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর ১৭ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহতদের চিকিৎসা চলছে। ঘটনার পর তিনি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ, দমকল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দল, চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট পূজামণ্ডপ।
‎
‎এদিকে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন দর্শনার্থী। তাদের দাবি, ভিড় সামলাতে পুলিশের কার্যকর ব্যবস্থা থাকলে এমন প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতে পারত। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের ফল এখনো জানা যায়নি। দুর্ঘটনার তথ্য জানতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইনও চালু করেছে।
‎
‎দুর্ঘটনায় শোক জানিয়ে নরেন্দ্র মোদি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের প্রত্যেকের নিকটাত্মীয়কে দুই লাখ রুপি এবং আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপি করে সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
‎
‎কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে শোক প্রকাশ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলার কথা জানিয়ে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি। দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রবিবারের নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করেছেন অমিত শাহ। আহতদের দেখতে হাসপাতালে যাওয়ার কথা রয়েছে তার।
‎
‎পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনার পাশাপাশি নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের এ কঠিন সময়ে ধৈর্য ও শক্তি কামনা করেন তিনি।
‎
‎তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কুণাল ঘোষও ঘটনাটিকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে আহতদের দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণের চেয়ে এই মুহূর্তে আহতদের জীবন রক্ষা এবং গুরুতর আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি।
‎
‎উৎসবের মৌসুমে এমন প্রাণহানির ঘটনায় কলকাতার পূজামণ্ডপগুলোর ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তে দুর্ঘটনার কারণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা স্পষ্ট হবে।

বিষয় : ভারত

আপনার মতামত লিখুন

কোন মন্তব্য নেই।

মতামত দিন
Sokaler Bangladesh

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


কলকাতার দুর্গাপূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image


‎
‎ভারী বৃষ্টি আর মণ্ডপে প্রবেশের হুড়োহুড়ি—উৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নিল মৃত্যুর মিছিলে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় দুর্গাপূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রত্যেকের নিকটাত্মীয়কে দুই লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন মোদি।
‎
‎শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক থানার আওতাধীন চোরবাগান এলাকার সারদা পার্কে একটি সর্বজনীন দুর্গাপূজামণ্ডপের প্রবেশপথে এ পদদলনের ঘটনা ঘটে। কলকাতা পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আহতদের উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হয়।
‎
‎প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে মণ্ডপের বাইরে অপেক্ষমাণ দর্শনার্থীরা ভেতরে প্রবেশের জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করেন। এ সময় কয়েকজন সড়কে পড়ে গেলে তাদের ওপর দিয়ে অন্য দর্শনার্থীরা এগিয়ে যাওয়ায় পদদলনের ঘটনা ঘটে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
‎
‎পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর ১৭ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহতদের চিকিৎসা চলছে। ঘটনার পর তিনি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ, দমকল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দল, চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট পূজামণ্ডপ।
‎
‎এদিকে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন দর্শনার্থী। তাদের দাবি, ভিড় সামলাতে পুলিশের কার্যকর ব্যবস্থা থাকলে এমন প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতে পারত। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের ফল এখনো জানা যায়নি। দুর্ঘটনার তথ্য জানতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইনও চালু করেছে।
‎
‎দুর্ঘটনায় শোক জানিয়ে নরেন্দ্র মোদি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের প্রত্যেকের নিকটাত্মীয়কে দুই লাখ রুপি এবং আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপি করে সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
‎
‎কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে শোক প্রকাশ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলার কথা জানিয়ে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি। দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রবিবারের নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করেছেন অমিত শাহ। আহতদের দেখতে হাসপাতালে যাওয়ার কথা রয়েছে তার।
‎
‎পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনার পাশাপাশি নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের এ কঠিন সময়ে ধৈর্য ও শক্তি কামনা করেন তিনি।
‎
‎তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কুণাল ঘোষও ঘটনাটিকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে আহতদের দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণের চেয়ে এই মুহূর্তে আহতদের জীবন রক্ষা এবং গুরুতর আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি।
‎
‎উৎসবের মৌসুমে এমন প্রাণহানির ঘটনায় কলকাতার পূজামণ্ডপগুলোর ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তে দুর্ঘটনার কারণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা স্পষ্ট হবে।


Sokaler Bangladesh

সম্পাদক ও প্রকাশক- রবিউল ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৬ Sokaler Bangladesh । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত