মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
Sokaler Bangladesh

ওমরাহ করতে গিয়ে ইহরাম পরা অবস্থায় নি/হ/ত হয়েছে বাংলাদেশের মুফতি নাসরুল্লাহ


প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

ওমরাহ করতে গিয়ে ইহরাম পরা অবস্থায় নি/হ/ত হয়েছে বাংলাদেশের মুফতি নাসরুল্লাহ

ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গিয়ে রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত হয়েছেন মুফতি নাসরুল্লাহ আল-বদর (৩৫)। তিনি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর ওলামা বাড়ির বাসিন্দা মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে।

নাসরুল্লাহ ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসায় দায়িত্ব পালন করতেন। স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে তার পরিবার।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের গতকাল রোববার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার (১০ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বেলা ৩টা ২০ মিনিটে সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩-এর ওপর একটি ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়ে। এসময় সেখানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা অপেক্ষা করছিলেন। এ ঘটনায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত হন। নিহত দুই বাংলাদেশির একজন মুফতি নাসরুল্লাহ। অপরজন বগুড়ার মো. শাহেদ আহম্মেদ।

মুফতি নাসরুল্লাহর বড় ভাই মাওলানা আহসান উল্লাহ বদর বলেন, ‘আমরা চার ভাই ও তিন বোন। আমি সবার বড়, আর নাসরুল্লাহ তৃতীয়। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে মাদ্রাসার ৪৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে নিয়ে তার নেতৃত্বে ওমরাহ পালনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু হয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমে রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় সে। পরে জেদ্দা যাওয়ার জন্য বোর্ডিংয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। সবার দায়িত্বে থাকায় সে একেবারে সামনের দিকে অবস্থান করছিল। সেখান থেকে জেদ্দা হয়ে পবিত্র মক্কায় গিয়ে ওমরাহ পালনের পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু তার মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাত সামনেই ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানে। এতে সে গুরুতর আহত হয়।’ রিয়াদ বিমানবন্দরে ট্রানজিটের সময়ই ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।

মাওলানা আহসান উল্লাহ বদর বলেন, ‘তাকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু আমরা তার কোনো খোঁজ পাচ্ছিলাম না। ধর্মমন্ত্রী ও বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। (রোববার) বিকেল চারটায় আমরা এ বিষয়ে জানতে পারি।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে সে সৌদি গিয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আমাদেরকে তার ডেথ সার্টিফিকেট পাঠায়। আমরা সরকারের কাছে তার মরদেহ দ্রুত ফেরত আনার উদ্যোগ চাই। শিশুসহ তার তিন সন্তান রয়েছে। তারা যেন যথাযথ ক্ষতিপূরণ পায়। আমরা সকলে কাছে দোয়া চাই।’
নাসরুল্লাহর বাবা মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, ‘গতকাল এয়ারপোর্টে নামার পর সে সর্বমেষ যোগাযোগ করে। এরপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ ছিল না। পরে (রোববার) বিকেলে তার মৃত্যুর খবর পাই। আমরা তার মরদেহ দেশে আনার অপেক্ষায় আছি।’

নাসরুল্লাহ স্ত্রী মাহবুব আক্তার ও সন্তানদের নিয়ে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাদের সংসারে সাত বছর বয়সী ছেলে জামিল হাসান, পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে নাবিলা আক্তার ও দুই বছর বয়সী ছেলে মো. জাওয়াদ রয়েছে। নাসরুল্লাহর মৃত্যুর পর স্ত্রী ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে তারা বদরপুর গ্রামের বাড়িতে আছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান বলেন, ‘খবর পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়েছি। নিহতের মরদেহ দেশে আনার জন্য যতটুকু সহযোগিতার প্রয়োজন তা করা হবে।’

বিষয় : মৃত্যু

আপনার মতামত লিখুন

কোন মন্তব্য নেই।

মতামত দিন
Sokaler Bangladesh

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


ওমরাহ করতে গিয়ে ইহরাম পরা অবস্থায় নি/হ/ত হয়েছে বাংলাদেশের মুফতি নাসরুল্লাহ

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গিয়ে রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত হয়েছেন মুফতি নাসরুল্লাহ আল-বদর (৩৫)। তিনি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর ওলামা বাড়ির বাসিন্দা মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে।

নাসরুল্লাহ ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসায় দায়িত্ব পালন করতেন। স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে তার পরিবার।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের গতকাল রোববার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার (১০ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বেলা ৩টা ২০ মিনিটে সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩-এর ওপর একটি ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়ে। এসময় সেখানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা অপেক্ষা করছিলেন। এ ঘটনায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত হন। নিহত দুই বাংলাদেশির একজন মুফতি নাসরুল্লাহ। অপরজন বগুড়ার মো. শাহেদ আহম্মেদ।

মুফতি নাসরুল্লাহর বড় ভাই মাওলানা আহসান উল্লাহ বদর বলেন, ‘আমরা চার ভাই ও তিন বোন। আমি সবার বড়, আর নাসরুল্লাহ তৃতীয়। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে মাদ্রাসার ৪৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে নিয়ে তার নেতৃত্বে ওমরাহ পালনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু হয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমে রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় সে। পরে জেদ্দা যাওয়ার জন্য বোর্ডিংয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। সবার দায়িত্বে থাকায় সে একেবারে সামনের দিকে অবস্থান করছিল। সেখান থেকে জেদ্দা হয়ে পবিত্র মক্কায় গিয়ে ওমরাহ পালনের পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু তার মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাত সামনেই ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানে। এতে সে গুরুতর আহত হয়।’ রিয়াদ বিমানবন্দরে ট্রানজিটের সময়ই ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।

মাওলানা আহসান উল্লাহ বদর বলেন, ‘তাকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু আমরা তার কোনো খোঁজ পাচ্ছিলাম না। ধর্মমন্ত্রী ও বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। (রোববার) বিকেল চারটায় আমরা এ বিষয়ে জানতে পারি।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে সে সৌদি গিয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আমাদেরকে তার ডেথ সার্টিফিকেট পাঠায়। আমরা সরকারের কাছে তার মরদেহ দ্রুত ফেরত আনার উদ্যোগ চাই। শিশুসহ তার তিন সন্তান রয়েছে। তারা যেন যথাযথ ক্ষতিপূরণ পায়। আমরা সকলে কাছে দোয়া চাই।’
নাসরুল্লাহর বাবা মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, ‘গতকাল এয়ারপোর্টে নামার পর সে সর্বমেষ যোগাযোগ করে। এরপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ ছিল না। পরে (রোববার) বিকেলে তার মৃত্যুর খবর পাই। আমরা তার মরদেহ দেশে আনার অপেক্ষায় আছি।’

নাসরুল্লাহ স্ত্রী মাহবুব আক্তার ও সন্তানদের নিয়ে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাদের সংসারে সাত বছর বয়সী ছেলে জামিল হাসান, পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে নাবিলা আক্তার ও দুই বছর বয়সী ছেলে মো. জাওয়াদ রয়েছে। নাসরুল্লাহর মৃত্যুর পর স্ত্রী ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে তারা বদরপুর গ্রামের বাড়িতে আছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান বলেন, ‘খবর পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়েছি। নিহতের মরদেহ দেশে আনার জন্য যতটুকু সহযোগিতার প্রয়োজন তা করা হবে।’


Sokaler Bangladesh

সম্পাদক ও প্রকাশক- রবিউল ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৬ Sokaler Bangladesh । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত