সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে টানা হামলার খবরে নতুন করে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। আগের দিনের প্রাণহানির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রোববার রাতে আবারও হামলার মুখে পড়ে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বিমানবন্দরের চার নম্বর যাত্রী টার্মিনালে একটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল আঘাত হানার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একই সময়ে রিয়াদের কেন্দ্রস্থলে শোনা যায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের দাবি, বিমানবন্দরের কাছাকাছি আকাশে শনাক্ত একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। তবে টার্মিনালে আঘাত হানা প্রজেক্টাইলের উৎস এবং বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিমানবন্দরসংলগ্ন আকাশে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে সেটি প্রতিহত করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিমানবন্দরের চার নম্বর টার্মিনালে প্রজেক্টাইলের আঘাতের পর আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। জরুরি সেবা ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে টার্মিনালের ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে রোববার রাতের ওই ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা আগে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত বিমানবন্দরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এর পরপরই রিয়াদে নতুন করে হামলার খবর সামনে আসে। ঘটনাগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হুথিদের পক্ষ থেকেও এই হামলার দায় স্বীকারের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ৮টার দিকে রিয়াদের মধ্যাঞ্চলে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে শব্দটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, নাকি সেটি প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যক্রমের ফল—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিমানবন্দরের টার্মিনালে আঘাতের ঘটনাটি এবং আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি একই অভিযানের অংশ কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।
এর আগে শনিবার রিয়াদ বিমানবন্দরকে ঘিরে হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সৌদি আরবের পাঁচজন এবং বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও সুদানের একজন করে নাগরিক থাকার কথাও বলা হয়েছে। তবে প্রাণহানি ও হতাহতের এই পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
পরপর দুই দিনের হামলার খবরে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও আকাশপথে চলাচল নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিমান ওঠানামা পুরোপুরি বন্ধ থাকার যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বা বিমান সংস্থার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। টার্মিনালের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বেসামরিক বিমান চলাচলে আরও চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে রিয়াদে সর্বশেষ হামলার দায়, ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
বিষয় : সৌদি আরব

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে টানা হামলার খবরে নতুন করে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। আগের দিনের প্রাণহানির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রোববার রাতে আবারও হামলার মুখে পড়ে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বিমানবন্দরের চার নম্বর যাত্রী টার্মিনালে একটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল আঘাত হানার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একই সময়ে রিয়াদের কেন্দ্রস্থলে শোনা যায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের দাবি, বিমানবন্দরের কাছাকাছি আকাশে শনাক্ত একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। তবে টার্মিনালে আঘাত হানা প্রজেক্টাইলের উৎস এবং বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিমানবন্দরসংলগ্ন আকাশে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে সেটি প্রতিহত করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিমানবন্দরের চার নম্বর টার্মিনালে প্রজেক্টাইলের আঘাতের পর আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। জরুরি সেবা ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে টার্মিনালের ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে রোববার রাতের ওই ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা আগে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত বিমানবন্দরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এর পরপরই রিয়াদে নতুন করে হামলার খবর সামনে আসে। ঘটনাগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হুথিদের পক্ষ থেকেও এই হামলার দায় স্বীকারের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ৮টার দিকে রিয়াদের মধ্যাঞ্চলে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে শব্দটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, নাকি সেটি প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যক্রমের ফল—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিমানবন্দরের টার্মিনালে আঘাতের ঘটনাটি এবং আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি একই অভিযানের অংশ কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।
এর আগে শনিবার রিয়াদ বিমানবন্দরকে ঘিরে হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সৌদি আরবের পাঁচজন এবং বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও সুদানের একজন করে নাগরিক থাকার কথাও বলা হয়েছে। তবে প্রাণহানি ও হতাহতের এই পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
পরপর দুই দিনের হামলার খবরে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও আকাশপথে চলাচল নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিমান ওঠানামা পুরোপুরি বন্ধ থাকার যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বা বিমান সংস্থার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। টার্মিনালের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বেসামরিক বিমান চলাচলে আরও চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে রিয়াদে সর্বশেষ হামলার দায়, ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

কোন মন্তব্য নেই।