মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
Sokaler Bangladesh

দিল্লিতে বড় বিক্ষোভের ডাক ইন্ডিয়া জোটের


সকালের বাংলাদেশ
সকালের বাংলাদেশ
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

দিল্লিতে বড় বিক্ষোভের ডাক ইন্ডিয়া জোটের

মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে এবার দিল্লিতে বড় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বিরোধী ইন্ডিয়া জোট। আজ শনিবার ভারতের কেরালারআলপ্পুঝায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল এ কথা জানান। আজ শনিবার হিন্দস্থান টাইসের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবিধান ও জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষার চলমান লড়াইয়ের অংশ হিসেবে আগামী সোমবার রাজধানী দিল্লিতে এক বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ইন্ডিয়া জোট। এই ইস্যুতে ইতোমধ্যে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানাতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জোটের শীর্ষ নেতারা। পাশাপাশি, আগামী সোমবার ভারতের প্রধান বিচারপতির সঙ্গেও তাদের দেখা করার কথা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সুরক্ষা দেওয়ার অপচেষ্টার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর তীব্র সমালোচনা করেন বেণুগোপাল। তিনি অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন কমিশনারকে আড়াল করার এই প্রক্রিয়াই মোদি ও শাহের পতনের কারণ হবে।

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতেই থেকে যাওয়ার এবং সোমবার ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এর আগে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লি অবরুদ্ধ হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ঠেকাতে পশ্চিম বঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, দিল্লিতে কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারসহ ও ককরোচ পার্টির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাসহ ৫ হাজার জনকে আটক করা হয়েছে। আজ শনিবার দিনভর তাদের আটক করা হয়। দেশটির এনডিটিভি, আনন্দবাজার, দ্য হিন্দুসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

আন্দোলন ঠেকাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার কঠোর অবস্থান নেয়। তারা দিল্লিগামী ট্রেন, দিল্লির মেট্রো এবং বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। দিল্লি পুলিশের লক্ষ্য ছিল যন্তরমন্তরে যেন কেউ কোনোভাবে অবস্থান না নিতে পারেন।

বিবিসি জানিয়েছে, যন্তর মন্তরে পুলিশ কর্মকর্তারা সাড়িবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিল, মাথার উপর ড্রোন উড়ছে এবং জায়গায় জায়গায় ভারী লোহার ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। সেখানে কাউকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। দিল্লির সমস্ত দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।এমনকি সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া কিছু সাংবাদিককেও আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিবিসির সাংবাদিক। সাধারণ বিক্ষোভকারীদের ওপরও ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত থেকে আজ শনিবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। যারমধ্যে ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দ্বীপকেসহ শীর্ষ নেতা রয়েছেন।

জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকেও তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে। তিনি জার্মানি থেকে এই আন্দোলনে যোগ দিতে ভারতে আসেন। ভারতের নির্বাচন কমিশনার বিভিন্ন রাজ্যে কয়েক কোটি ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। এর প্রতিবাদে আজকে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল তারা।

এফএস

বিষয় : দিল্লি

আপনার মতামত লিখুন

কোন মন্তব্য নেই।

মতামত দিন
Sokaler Bangladesh

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


দিল্লিতে বড় বিক্ষোভের ডাক ইন্ডিয়া জোটের

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে এবার দিল্লিতে বড় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বিরোধী ইন্ডিয়া জোট। আজ শনিবার ভারতের কেরালারআলপ্পুঝায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল এ কথা জানান। আজ শনিবার হিন্দস্থান টাইসের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবিধান ও জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষার চলমান লড়াইয়ের অংশ হিসেবে আগামী সোমবার রাজধানী দিল্লিতে এক বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ইন্ডিয়া জোট। এই ইস্যুতে ইতোমধ্যে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানাতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জোটের শীর্ষ নেতারা। পাশাপাশি, আগামী সোমবার ভারতের প্রধান বিচারপতির সঙ্গেও তাদের দেখা করার কথা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সুরক্ষা দেওয়ার অপচেষ্টার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর তীব্র সমালোচনা করেন বেণুগোপাল। তিনি অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন কমিশনারকে আড়াল করার এই প্রক্রিয়াই মোদি ও শাহের পতনের কারণ হবে।

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতেই থেকে যাওয়ার এবং সোমবার ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এর আগে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লি অবরুদ্ধ হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ঠেকাতে পশ্চিম বঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, দিল্লিতে কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারসহ ও ককরোচ পার্টির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাসহ ৫ হাজার জনকে আটক করা হয়েছে। আজ শনিবার দিনভর তাদের আটক করা হয়। দেশটির এনডিটিভি, আনন্দবাজার, দ্য হিন্দুসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

আন্দোলন ঠেকাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার কঠোর অবস্থান নেয়। তারা দিল্লিগামী ট্রেন, দিল্লির মেট্রো এবং বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। দিল্লি পুলিশের লক্ষ্য ছিল যন্তরমন্তরে যেন কেউ কোনোভাবে অবস্থান না নিতে পারেন।

বিবিসি জানিয়েছে, যন্তর মন্তরে পুলিশ কর্মকর্তারা সাড়িবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিল, মাথার উপর ড্রোন উড়ছে এবং জায়গায় জায়গায় ভারী লোহার ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। সেখানে কাউকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। দিল্লির সমস্ত দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।এমনকি সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া কিছু সাংবাদিককেও আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিবিসির সাংবাদিক। সাধারণ বিক্ষোভকারীদের ওপরও ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত থেকে আজ শনিবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। যারমধ্যে ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দ্বীপকেসহ শীর্ষ নেতা রয়েছেন।

জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকেও তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে। তিনি জার্মানি থেকে এই আন্দোলনে যোগ দিতে ভারতে আসেন। ভারতের নির্বাচন কমিশনার বিভিন্ন রাজ্যে কয়েক কোটি ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। এর প্রতিবাদে আজকে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল তারা।

এফএস


Sokaler Bangladesh

সম্পাদক ও প্রকাশক- রবিউল ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৬ Sokaler Bangladesh । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত