মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
Sokaler Bangladesh

আইন পেশা ছেড়ে কুকুর হাঁটিয়েই লাখপতি নারী


সকালের বাংলাদেশ
সকালের বাংলাদেশ
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

আইন পেশা ছেড়ে কুকুর হাঁটিয়েই লাখপতি নারী

কর্পোরেট জীবনের চাপ ও মানসিক অবসাদ থেকে বেরিয়ে আসতে আইনজীবীর পেশা ছেড়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছেন যুক্তরাজ্যের ৩০ বছর বয়সী লিজ ইস্ট। বর্তমানে তিনি পেশাদার ‘ডগ ওয়াকার’ হিসেবে কাজ করছেন। আর এই পেশায় আগের তুলনায় কম সময় কাজ করেও মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন তিনি। পিপল ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।

আইন পেশায় আসার আগে চার বছর ধরে ক্রিমিনাল ডিফেন্সে কাজ করেছেন লিজ। প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি আদালতে যাওয়া এবং কারাগারে গিয়ে মক্কেলদের সঙ্গে দেখা করাও ছিল তাঁর দায়িত্বের অংশ। তবে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও কাজের অতিরিক্ত চাপ ধীরে ধীরে তাঁর মানসিক শান্তি কেড়ে নেয়।

লিজ জানান, লন্ডনের ব্যস্ত জীবন ও দীর্ঘ সময় কাজ করার কারণে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন প্রায় থমকে গিয়েছিল। অনেক দিন রাত ৯টা বা ১০টার দিকে তাঁকে বাড়ি ফিরতে হতো। একপর্যায়ে তাঁর মনে হয়, এভাবে চলা পরিবার গঠনের জন্য টেকসই নয়। অতিরিক্ত চাপ তাঁকে বার্নআউটের দিকেও নিয়ে যাচ্ছিল।

এর মধ্যে স্বামীর ডগ ওয়াকিং ও ডগ বোর্ডিংয়ের ব্যবসা দেখে নতুন করে অনুপ্রাণিত হন লিজ। তিনি ভাবতে শুরু করেন, স্বামী যদি নিজের কাজ উপভোগ করে করতে পারেন, তাহলে তিনি কেন ছুটির দিনেও কাজে ফেরার চিন্তায় অস্বস্তিতে থাকবেন?

এরপর আইন পেশা ছেড়ে নিজের ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন লিজ। ব্যবসা দাঁড় করানোর শুরুর দিকে খরচ চালাতে একটি স্থানীয় পাবে চাকরিও নেন তিনি। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তাঁর ব্যবসার পরিধি। এক বছরের মধ্যেই নিয়মিত গ্রাহকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

বর্তমানে প্রতিদিন চারটি দলে প্রায় ২০ থেকে ৩০টি কুকুর নিয়ে হাঁটেন লিজ। প্রতি কুকুরের জন্য ঘণ্টায় ১৪ পাউন্ড করে নেন তিনি। এতে প্রতিদিন তাঁর আয় হয় প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ পাউন্ড।

অনেকেই তাঁকে প্রশ্ন করেন, এত পড়াশোনা করে শেষ পর্যন্ত কুকুর হাঁটানোর পেশা কেন বেছে নিলেন?

জবাবে লিজ বলেন, ‘অনেকে মনে করেন এই পেশায় আয় কম। কিন্তু আমি কর্পোরেট চাকরির চেয়ে এখন অর্ধেক সময় কাজ করে তার চেয়ে অনেক বেশি টাকা আয় করছি। আইন পড়ার দিনগুলোকে আমি নষ্ট মনে করি না, কারণ সেখান থেকে শেখা অভিজ্ঞতা এখনো আমার নানা কাজে লাগে।’

তবে শুধু অর্থের জন্য এই পেশায় আসা উচিত নয় বলেও মনে করেন লিজ। তাঁর মতে, কুকুর ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা না থাকলে এই কাজ উপভোগ করা কঠিন।

লিজ বলেন, ‘আমার ডিগ্রিটি সবসময় আমার সঙ্গে থাকবে। চাইলে আমি যেকোনো সময় আইন পেশায় ফিরে যেতে পারব। যদিও মনে হয় না যে আমার আর কখনো সেখানে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজন হবে। কারণ বর্তমান কাজটিকে আমি সত্যিই ভীষণ ভালোবাসি।’

বিষয় : লাখপতি নারী কুকুর আইন পেশা

আপনার মতামত লিখুন

কোন মন্তব্য নেই।

মতামত দিন
Sokaler Bangladesh

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


আইন পেশা ছেড়ে কুকুর হাঁটিয়েই লাখপতি নারী

প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কর্পোরেট জীবনের চাপ ও মানসিক অবসাদ থেকে বেরিয়ে আসতে আইনজীবীর পেশা ছেড়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছেন যুক্তরাজ্যের ৩০ বছর বয়সী লিজ ইস্ট। বর্তমানে তিনি পেশাদার ‘ডগ ওয়াকার’ হিসেবে কাজ করছেন। আর এই পেশায় আগের তুলনায় কম সময় কাজ করেও মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন তিনি। পিপল ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।

আইন পেশায় আসার আগে চার বছর ধরে ক্রিমিনাল ডিফেন্সে কাজ করেছেন লিজ। প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি আদালতে যাওয়া এবং কারাগারে গিয়ে মক্কেলদের সঙ্গে দেখা করাও ছিল তাঁর দায়িত্বের অংশ। তবে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও কাজের অতিরিক্ত চাপ ধীরে ধীরে তাঁর মানসিক শান্তি কেড়ে নেয়।

লিজ জানান, লন্ডনের ব্যস্ত জীবন ও দীর্ঘ সময় কাজ করার কারণে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন প্রায় থমকে গিয়েছিল। অনেক দিন রাত ৯টা বা ১০টার দিকে তাঁকে বাড়ি ফিরতে হতো। একপর্যায়ে তাঁর মনে হয়, এভাবে চলা পরিবার গঠনের জন্য টেকসই নয়। অতিরিক্ত চাপ তাঁকে বার্নআউটের দিকেও নিয়ে যাচ্ছিল।

এর মধ্যে স্বামীর ডগ ওয়াকিং ও ডগ বোর্ডিংয়ের ব্যবসা দেখে নতুন করে অনুপ্রাণিত হন লিজ। তিনি ভাবতে শুরু করেন, স্বামী যদি নিজের কাজ উপভোগ করে করতে পারেন, তাহলে তিনি কেন ছুটির দিনেও কাজে ফেরার চিন্তায় অস্বস্তিতে থাকবেন?

এরপর আইন পেশা ছেড়ে নিজের ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন লিজ। ব্যবসা দাঁড় করানোর শুরুর দিকে খরচ চালাতে একটি স্থানীয় পাবে চাকরিও নেন তিনি। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তাঁর ব্যবসার পরিধি। এক বছরের মধ্যেই নিয়মিত গ্রাহকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

বর্তমানে প্রতিদিন চারটি দলে প্রায় ২০ থেকে ৩০টি কুকুর নিয়ে হাঁটেন লিজ। প্রতি কুকুরের জন্য ঘণ্টায় ১৪ পাউন্ড করে নেন তিনি। এতে প্রতিদিন তাঁর আয় হয় প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ পাউন্ড।

অনেকেই তাঁকে প্রশ্ন করেন, এত পড়াশোনা করে শেষ পর্যন্ত কুকুর হাঁটানোর পেশা কেন বেছে নিলেন?

জবাবে লিজ বলেন, ‘অনেকে মনে করেন এই পেশায় আয় কম। কিন্তু আমি কর্পোরেট চাকরির চেয়ে এখন অর্ধেক সময় কাজ করে তার চেয়ে অনেক বেশি টাকা আয় করছি। আইন পড়ার দিনগুলোকে আমি নষ্ট মনে করি না, কারণ সেখান থেকে শেখা অভিজ্ঞতা এখনো আমার নানা কাজে লাগে।’

তবে শুধু অর্থের জন্য এই পেশায় আসা উচিত নয় বলেও মনে করেন লিজ। তাঁর মতে, কুকুর ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা না থাকলে এই কাজ উপভোগ করা কঠিন।

লিজ বলেন, ‘আমার ডিগ্রিটি সবসময় আমার সঙ্গে থাকবে। চাইলে আমি যেকোনো সময় আইন পেশায় ফিরে যেতে পারব। যদিও মনে হয় না যে আমার আর কখনো সেখানে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজন হবে। কারণ বর্তমান কাজটিকে আমি সত্যিই ভীষণ ভালোবাসি।’


Sokaler Bangladesh

সম্পাদক ও প্রকাশক- রবিউল ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৬ Sokaler Bangladesh । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত