সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
Sokaler Bangladesh

স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেও বাড়ছে ওজন! জেনে নিন কারণগুলো

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করলেই ওজন কমবে—বিষয়টি সবসময় এমন নয়। বাড়িতে রান্না করা খাবার, ফল ও শাক-সবজি বেশি খাওয়া এবং ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলার পরও কারও কারও ওজন ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।এর পেছনে খাবারের পরিমাণ, ঘন ঘন নাস্তা করা, শারীরিক কার্যকলাপ কমে যাওয়া, ঘুমের ঘাটতি, মানসিক চাপ, হরমোনজনিত সমস্যা কিংবা কিছু ওষুধের প্রভাব থাকতে পারে। আবার প্রতিদিনের ওজনের সামান্য ওঠানামাও সবসময় শরীরে চর্বি বাড়ার ইঙ্গিত দেয় না। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরও ওজন বাড়ার সম্ভাব্য সাতটি কারণ জেনে নিন—১. স্বাস্থ্যকর খাবারও বেশি খাওয়া হতে পারেবাদাম, বীজ, পিনাট বাটার, অ্যাভোকাডো, গোটা শস্য, পনির ও রান্নার তেল পুষ্টিকর খাবার হলেও এগুলোতে তুলনামূলকভাবে ক্যালোরি বেশি থাকতে পারে। ফলে পরিমাণের দিকে খেয়াল না রাখলে স্বাস্থ্যকর খাবার থেকেও প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালোরি গ্রহণ হতে পারে।যেমন সালাদে বেশি বাদাম, পনির বা ড্রেসিং যোগ করলে খাবারটি স্বাস্থ্যকর থাকলেও মোট ক্যালোরি অনেক বেড়ে যেতে পারে। তাই খাবারের গুণগত মানের পাশাপাশি পরিমাণের দিকেও নজর রাখা জরুরি।২. স্বাস্থ্যকর নাস্তাও অতিরিক্ত হয়ে যেতে পারেগ্রানোলা, প্রোটিন বার, স্মুদি, শুকনো ফল ও দইয়ের মতো খাবার পুষ্টিকর হতে পারে। তবে এগুলোও অতিরিক্ত পরিমাণে বা দিনে কয়েকবার খেলে মোট ক্যালোরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে।তাই নাস্তা করার আগে সত্যিই ক্ষুধা লাগছে কি না, নাকি একঘেয়েমি, মানসিক চাপ বা অভ্যাসের কারণে খাওয়া হচ্ছে—সেদিকে খেয়াল রাখা উপকারী।৩. দৈনন্দিন চলাফেরা কমে যেতে পারেওজন নিয়ন্ত্রণে শুধু ব্যায়াম নয়, সারাদিনের মোট শারীরিক কার্যকলাপও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম করলেও দিনের বেশিরভাগ সময় ডেস্কে বসে থাকা, বাড়ি থেকে কাজ করা, গাড়িতে চলাচল করা কিংবা দীর্ঘ সময় সোফায় বসে থাকার কারণে দৈনিক ক্যালোরি খরচ কমে যেতে পারে।বেশি হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার, ঘরের কাজ করা এবং দীর্ঘ সময় বসে থাকার মাঝে নিয়মিত বিরতি নেওয়ার মতো ছোট ছোট অভ্যাস দৈনন্দিন কার্যকলাপ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।৪. ঘুমের ঘাটতিও ভূমিকা রাখতে পারেপর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্ষুধা ও তৃপ্তির সঙ্গে সম্পর্কিত শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। এতে বেশি ক্ষুধা লাগা বা বেশি ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। ঘুমের অভাবে দিনের বেলা ক্লান্তিও বাড়তে পারে, ফলে শারীরিক কার্যকলাপ কমে যেতে পারে।তাই ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে খাবার ও ব্যায়ামের পাশাপাশি নিয়মিত ঘুমের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।৫. দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপদীর্ঘদিনের মানসিক চাপ খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন রুটিনে পরিবর্তন আনতে পারে। কেউ কেউ চাপের সময় বেশি খাবার খান, বিশেষ করে চিনি, চর্বি বা ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে পারে। আবার মানসিক চাপের কারণে ঘুমের ব্যাঘাত ও শারীরিক কার্যকলাপ কমে যাওয়ারও সম্ভাবনা থাকে।স্ট্রেসের সঙ্গে কর্টিসল হরমোনের সম্পর্ক থাকলেও শুধু কর্টিসলকে ওজন বাড়ার একমাত্র কারণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। খাদ্যাভ্যাস, ঘুম, শারীরিক কার্যকলাপ ও সামগ্রিক ক্যালোরি ভারসাম্যও এতে ভূমিকা রাখে।৬. হরমোনজনিত সমস্যা বা কিছু অসুস্থতাকখনো কখনো ক্রমাগত বা অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধির পেছনে স্বাস্থ্যগত কারণ থাকতে পারে। যেমন থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা কমে গেলে ক্লান্তি, ঠান্ডা বেশি লাগা, কোষ্ঠকাঠিন্য ও ওজন বৃদ্ধির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।এ ছাড়া পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS)-এর সঙ্গে ওজন বৃদ্ধি বা ওজন কমাতে অসুবিধার সম্পর্ক থাকতে পারে। কিছু ওষুধ—যেমন নির্দিষ্ট ধরনের অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, স্টেরয়েড ও ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ—এমন প্রভাব ফেলতে পারে।ওজন ক্রমাগত বাড়তে থাকলে বা এর সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।৭. ওজনের কাঁটা সবসময় পুরো চিত্র দেখায় নাশরীরে পানি জমা, বেশি লবণ খাওয়া, হরমোনের ওঠানামা, কোষ্ঠকাঠিন্য, পরিপাকতন্ত্রে খাবার থাকা এবং ব্যায়ামের পরিবর্তনের কারণে প্রতিদিনের ওজন কিছুটা কমবেশি হতে পারে।আবার শক্তি প্রশিক্ষণ শুরু করলে শরীরের চর্বি কমার পাশাপাশি পেশির পরিমাণ বাড়তে পারে। ফলে শরীরের গঠন বদলালেও ওজনের কাঁটায় বড় পরিবর্তন নাও দেখা যেতে পারে।তাই প্রতিদিনের একটি ওজনের ওপর নির্ভর না করে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা দেখা ভালো। পাশাপাশি কোমরের মাপ, পোশাকের ফিটিং ও শারীরিক সক্ষমতার পরিবর্তনও বিবেচনায় রাখা যেতে পারে।স্বাস্থ্যকর খাবার শরীর সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। তবে ওজনের ওপর শুধু খাবারের ধরন নয়, খাবারের পরিমাণ, নাস্তা, শারীরিক কার্যকলাপ, ঘুম, মানসিক চাপ, ওষুধ, কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যা এবং শরীরের গঠনের পরিবর্তন—সবকিছুরই প্রভাব থাকতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরও যদি ওজন অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে, কারণটি বোঝার জন্য চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেও বাড়ছে ওজন! জেনে নিন কারণগুলো