সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
Sokaler Bangladesh

‎এআই ডিপফেক বিতর্কে সরব মেহজাবীন, প্রশ্ন তুললেন সামাজিক বিবেক নিয়ে

‎কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তারকাদের চেহারা ব্যবহার করে তৈরি আপত্তিকর ডিপফেক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। তাঁর প্রশ্ন, অন্যকে অপমান ও অসম্মান করে কবে থেকে উপার্জনের পথ তৈরি হলো? তাঁর মতে, এআই দিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করে কাউকে হেয় করা যেমন অপরাধ, তেমনি সেসব ছড়িয়ে দেওয়াও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়। ‎ ‎বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা বলেন মেহজাবীন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ হ্যাক হওয়ার পর সেখানে প্রকাশিত এআই-নির্মিত আপত্তিকর ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে হ্যাকিংয়ের বিষয়টি জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমটি। তবে ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। ‎ ‎মেহজাবীন লিখেছেন, ‘এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনো বিনোদন নয়, বরং অপরাধ।’ ‎ ‎অভিনেত্রীর মতে, এ ধরনের কনটেন্ট যখন শত শত কিংবা হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করতে থাকেন, তখন তা আর বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং সামনে আসে সমাজের একটি গভীর সংকট। অন্যকে অপমান করে তৈরি কনটেন্টে মানুষের অংশগ্রহণ ও তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ‎ ‎কাউকে সম্মান করার ক্ষেত্রে তাকে নিজের পরিবারের সদস্য হিসেবে কল্পনা করার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন মেহজাবীন। তিনি লিখেছেন, ‘এই পর্যায়ে এসে সেই পুরোনো কথাটাও আর বলতে ইচ্ছে করে না যে, একবার ভাবুন তো, এমনটা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত! কারণ কাউকে মানুষ হিসেবে সম্মান করতে, তাকে আমাদের পরিবারের সদস্য হতে হবে কেন?’ ‎ ‎সামাজিক মাধ্যমে ভিউ, লাইক, শেয়ার ও ট্রেন্ডিংয়ে থাকার প্রতিযোগিতাকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে মেহজাবীন প্রশ্ন তুলেছেন, মানুষের অপমানকে কীভাবে আয়ের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি স্বীকার করেছেন, অনেকের কাছে কনটেন্ট তৈরি জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম। মানুষের সংগ্রাম ও বাস্তবতাকেও অস্বীকার করছেন না তিনি। তবে অর্থ উপার্জন কিংবা জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য অন্যের সম্মান ক্ষুণ্ন করার প্রবণতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী। ‎ ‎মেহজাবীনের বক্তব্যে উঠে এসেছে, এ ধরনের ক্ষতিকর কনটেন্টের প্রভাব নারী কিংবা পুরুষ—কোনো একটি গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভিউ ও এনগেজমেন্টের প্রতিযোগিতায় যে কেউ এমন কনটেন্ট তৈরির অংশ হতে পারেন, আবার যে কেউ এর শিকারও হতে পারেন। তাই শুধু ভিডিও নির্মাতাদের নয়, সেগুলো জেনেশুনে শেয়ার করা, প্রচার করা কিংবা আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। ‎ ‎পোস্টের শেষাংশে মেহজাবীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের নিজেদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘একজন অপরাধীর অপরাধে অংশ নিয়ে নিজের বিবেকহীনতার পরিচয় দেবেন কি না, ভেবে দেখতে পারেন।’ ‎ ‎এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার ও ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যক্তির সম্মানহানির এই বিতর্কে মেহজাবীনের বক্তব্য নতুন করে সামনে এনেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—প্রযুক্তির ব্যবহার যখন অন্যের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে, তখন সেটিকে নিছক বিনোদন বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ কতটুকু?

‎এআই ডিপফেক বিতর্কে সরব মেহজাবীন, প্রশ্ন তুললেন সামাজিক বিবেক নিয়ে