সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
Sokaler Bangladesh

‘বাবা জামায়াতের আমির, এজন্যই হয়তো বিসিএসের গেজেটে আমার নাম আসেনি’

সব ধাপ সফলভাবে পেরিয়ে ৪৯তম বিসিএসে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও দীর্ঘ ১০ মাস অপেক্ষার শেষে প্রকাশিত গেজেটে নিজের নাম না থাকায় চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পর তালিকায় নিজের নাম না দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন স্ট্যাটাসে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।গেজেট থেকে বাদ পড়া ওই শিক্ষার্থীর নাম রেদওয়ান আহমদ তাহমিদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাহমিদের অভিযোগ, তার বাবা জামায়াতের স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণেই হয়তো পুলিশ ভেরিফিকেশনের পর তাকে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তাহমিদ জানান, গত বছরের জুন থেকে কঠোর পরিশ্রম করে চাকরির প্রস্তুতি শুরু করেন তিনি। প্রথমে ব্যাংকের প্রিলিমিনারি ও লিখিত—দুই পরীক্ষাতেই কৃতকার্য হন। পরে ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারিতেও উত্তীর্ণ হন। তবে ৪৯তম বিসিএসের পরীক্ষার তারিখ মাত্র ২০ দিন বাকি থাকায় এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি স্থগিত রেখে ৪৯তম বিসিএসের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেন।৪৯তম বিসিএসে অংশ নিয়ে সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পর বিভাগের শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিয়ে জীবনের প্রথম চাকরির ভাইবায় অংশ নেন তিনি। প্রথম ভাইবা হলেও তার পরীক্ষা ভালো হয় বলে জানান তাহমিদ। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) তাকে ক্যাডারে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করে।তবে সুপারিশ পাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় অনিশ্চয়তা। তাহমিদের ভাষ্য, দেশে সরকার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া প্রায় ১০ মাস ধরে দীর্ঘায়িত হয়। বিসিএসের চাকরিতে সুপারিশ পাওয়ার ওপর ভরসা করে আগে আবেদন করা অন্তত ১০ থেকে ১৫টি সরকারি চাকরির পরীক্ষায় তিনি আর অংশ নেননি। পরবর্তী সময়ে ভালো চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলেও সেগুলোতেও আবেদন করেননি।ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনের কথাও তুলে ধরেছেন তাহমিদ। ঢাকায় এক কক্ষের ছোট ভাড়া বাসায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার। পরিবার ও স্ত্রীর মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করে আসছিলেন তিনি।তাহমিদের ভাষ্য অনুযায়ী, শারীরিক দুর্বলতা সত্ত্বেও গেজেট প্রকাশের ঐতিহাসিক আনন্দঘন মুহূর্তটি স্বামীর সঙ্গে উদযাপন করতে তার স্ত্রী নিজের বাড়িতে না গিয়ে ঢাকায় তার কাছেই ছিলেন। কিন্তু গেজেটে নাম না আসার পর তাদের ঘরে এখন শুধুই কান্নার পরিবেশ।গেজেট থেকে বাদ পড়ার কারণ সম্পর্কে তাহমিদ বলেন, ‘আমার বাবা সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা জামায়াতের আমির। ভেরিফিকেশনের সময় আমাকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছিল পরিবারের কেউ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কি না। আমি সততার সঙ্গেই জানিয়েছিলাম যে আমার বাবা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাজনৈতিক এই কারণ ছাড়া আমাকে বাদ দেওয়ার মতো অন্য কোনো বিষয় আমার নথিপত্রে ছিল না।’তবে পুলিশ ভেরিফিকেশনে ঠিক কী কারণে তাহমিদের নাম চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ পড়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা জানা যায়নি। 

‘বাবা জামায়াতের আমির, এজন্যই হয়তো বিসিএসের গেজেটে আমার নাম আসেনি’