মাগুরায় এক বাড়িতে এক মাসের বিদুৎ বিল এসেছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা!
মাগুরার মাগুরা সদর উপজেলায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বিল দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিস। অস্বাভাবিক এ বিল নিয়ে গ্রাহক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের এ বিল ইস্যু করা হয়।বিলে দেখা যায়, এক মাসে ওই গ্রাহক মোট ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন। ৮ আগস্টের পূর্ববর্তী মিটার রিডিং ছিল ১৬০ এবং ৮ সেপ্টেম্বরের বর্তমান রিডিং ৩৯৫। কিন্তু এর বিপরীতে শুধু ডিমান্ড চার্জই ধরা হয়েছে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা।এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করে মোট বিল দাঁড়িয়েছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ বিলের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা।অথচ সরকার নির্ধারিত тариф অনুযায়ী ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিল হওয়ার কথা প্রায় ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুল যোগ হলেও তা প্রায় ২ হাজার ৫৬ টাকা হওয়ার কথা।ভুক্তভোগী আলেয়া খাতুন বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগের খামখেয়ালিপনায় গ্রাহকের দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তি বাড়ছে। এ ধরনের ভুলের প্রতিকার হওয়া জরুরি।’সমাজসেবক ও মাগুরা জেলা গণ অধিকার পরিষদের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. খলিলুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিল তৈরির প্রক্রিয়ায় এমন অস্বাভাবিক ভুল শুধু আর্থিক আতঙ্কই নয়, প্রশাসনিক ভোগান্তিও তৈরি করে। তাই বিল প্রস্তুত ও যাচাইয়ের প্রতিটি ধাপে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।’এ বিষয়ে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম ভুলের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, মিটার পরিবর্তনের সময় ভুলবশত সিল নম্বরের ডিজিট ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হওয়ায় এ অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয়েছে।তিনি বলেন, দ্রুত বিলটি সংশোধন করে গ্রাহককে নতুন বিল দেওয়া হবে। একই সঙ্গে এ ভুলের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিতুল ইসলাম বলেন, টাইপিং ভুলের কারণে এমনটি হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।