সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
Sokaler Bangladesh

জাল স্বাক্ষরে ভূঞাপুরে কাউন্সিলর প্রার্থীসহ ১৫ জনের ভোটার স্থানান্তর

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে স্বাক্ষর জাল করে বিএনপি নেতা ও কাউন্সিলর প্রার্থীসহ অন্তত ১৫ জনের ভোটার স্থানান্তরের ঘটনা ঘটেছে। তাদের ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে।গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা ও কাউন্সিলর প্রার্থী মো. হারুন অর রশিদ এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।অভিযোগপত্রে জানা যায়, ভূঞাপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী মো. হারুন অর রশিদ গত ২৭ সেপ্টেম্বর ভোটার তালিকা যাচাই করতে গিয়ে জানতে পারেন, তার নিজের ও নিকটাত্মীয়দের ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে স্থানান্তর করে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার করা হয়েছে।ভোটার স্থানান্তরের আবেদন ফরমে থাকা স্বাক্ষর তার ও তার আত্মীয়দের কারও নয় বলে জানান হারুন অর রশিদ। অসৎ উদ্দেশ্যে একটি মহল জালিয়াতির মাধ্যমে এসব কাজ করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।একইভাবে ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবপুর গ্রামের অন্তত ১৫ জন ভোটারকে তাদের অজান্তেই অন্য এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।কুতুবপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জুয়েল মিঞা বলেন, এনআইডি কার্ডের নাম সংশোধনের জন্য নির্বাচন অফিসে গেলে তিনি জানতে পারেন, কুতুবপুরের পরিবর্তে তার ঠিকানা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রসুনা গ্রামে দেখানো হয়েছে। পরে বাবার এনআইডি নম্বর দিয়ে তথ্য যাচাই করেও একই ঠিকানা দেখতে পান। তার বাবা ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী।জুয়েল বলেন, তাদের স্বাক্ষর জাল করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে। তার চাচা সাবেক কাউন্সিলরসহ পরিবারের মোট নয়জনের ঠিকানা পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।সাবেক কাউন্সিলর ও কাউন্সিলর প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন দুলাল বলেন, তাকে সহ কয়েকজন সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জাল করে ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।আরেক ভুক্তভোগী ও কাউন্সিলর প্রার্থী মো. জয়েন বলেন, “আমি ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী। আমি সহ এই ওয়ার্ডের যারা কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন, সবাইকে ভিন্ন ভিন্ন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে।” তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।ভুক্তভোগী নূরুল আমীন বলেন, “আমার নামে বিদ্যুতের মিটার না থাকা সত্ত্বেও ভুয়া বিদ্যুৎ মিটারের কাগজ জমা দেওয়া হয়েছে। আমার সব ভুয়া কাগজপত্র অফিসে জমা দিয়ে এমন কাজ করা হয়েছে।”এ বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নার্গিস আক্তার বলেন, “বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর ভুক্তভোগীদের অফিসে আসার আহ্বান জানিয়েছি। অতি শিগগিরই তাদের সমস্যা সমাধান করা হবে।”

জাল স্বাক্ষরে ভূঞাপুরে কাউন্সিলর প্রার্থীসহ ১৫ জনের ভোটার স্থানান্তর