চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অবরুদ্ধ করে রেখেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য ভবনের ফটকে তালা দেওয়ার পর ২৫ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ভেতরে আটকে রয়েছেন তিনি। এর মধ্যে বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন উপাচার্য। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অনড় অবস্থান এবং শিক্ষক সমিতির অসহযোগ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে অচলাবস্থা আরও দীর্ঘ হচ্ছে।সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১২টার পর উপাচার্য ভবনের ফটকে তালা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত ভবনের ভেতরেই অবস্থান করছিলেন উপাচার্য। তিনি জানান, সকালে কার্যালয়ে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের পরিস্থিতি অমানবিক। উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো লিখিত দাবিও পাননি তিনি। দাবিগুলো লিখিতভাবে পেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) অবহিত করতে পারতেন। তিনি আরও জানান, রাতে পুলিশের মাধ্যমে পাঠানো খাবার খেয়েছেন। প্রচণ্ড মাথাব্যথার কারণে রাতে ঘুমাতেও পারেননি। অন্যদিকে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, উপাচার্য পদত্যাগ করলেই ভবনের তালা খুলে দেওয়া হবে। ফলে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে রয়েছেন তাঁরা। চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. আহসানউল্লাহও জানিয়েছেন, তাঁদের অসহযোগ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান এই অচলাবস্থার সূত্রপাত গত ২১ সেপ্টেম্বর। ওই দিন অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। নতুন উপাচার্যের নিয়োগের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। উপাচার্যকে অবরুদ্ধ রাখা, জরুরি পরিষেবার সংযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযোগ এবং শিক্ষক সমিতির অসহযোগ কর্মসূচি—সব মিলিয়ে চুয়েটের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দ্রুত সমাধান না এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।