সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
Sokaler Bangladesh

দুই মাসে ব্যাংক থেকে সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার!

চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের শুরুতেই ব্যাংকনির্ভরতা বেড়েছে সরকারের। অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে মোট ১৬ হাজার ৬০১ কোটি টাকা ধার করেছে সরকার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সরকারের ব্যাংকঋণ বেড়েছে ৪১০ শতাংশ। তবে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নতুন করে ঋণ নেওয়ার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আগের নেওয়া ঋণের একটি অংশ পরিশোধ করেছে সরকার।বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, জুলাই-আগস্টে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১৬ হাজার ৬০১ কোটি টাকা নেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ৩ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে অর্থবছরের মাত্র দুই মাসেই লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১১ দশমিক ৪৯ শতাংশ ঋণ নেওয়া হয়ে গেছে। ব্যাংকার ও খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ঘাটতি থাকায় সরকারি ব্যয় নির্বাহে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতের ঋণ চাহিদাও বর্তমানে তুলনামূলক কম। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সংকটসহ বিভিন্ন কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে চাপ থাকায় রাজস্ব আদায়েও এর প্রভাব পড়ছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি এখন ৫ শতাংশের নিচে। ফলে সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিলেও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে না। তবে সরকারের ঋণের সুদহার কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর আয় কমছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারি ঋণের সুদহার আমানতের সুদহারের চেয়েও কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ আগস্ট বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে সরকারের ঋণের স্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮ হাজার ২৫ কোটি টাকা। গত জুন শেষে এর পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৯১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি কমেছে। আগস্ট শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সরকারের ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯০ হাজার ৩২২ কোটি টাকা, যা জুন শেষে ছিল ৯৪ হাজার ৫১ কোটি টাকা। এদিকে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ভ্যাট আদায়েও বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ভ্যাট আদায় কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। সংশ্লিষ্টদের মতে, আগে মাসিক ভিত্তিতে ভ্যাট জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও বর্তমানে তিন মাস পর পর জমা দেওয়ার সুযোগ থাকায় আদায়ে সাময়িক প্রভাব পড়েছে। সরকার আবার মাসিক ভিত্তিতে ভ্যাট জমার ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে। সরকারের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থের ঘাটতি মেটাতে প্রতিবছর ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়া হয়।

দুই মাসে ব্যাংক থেকে সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার!