সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
Sokaler Bangladesh

ইতালিতে ফের বিক্ষোভের ডাক, তরুণদের ওপর ধরপাকড়

‎ ‎ ‎জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতির প্রতিবাদে ফের উত্তাল হয়ে উঠছে ইতালি। দেশটির আটটি বড় শহরে নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে মিলানে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনার পর শুরু হয়েছে ব্যাপক ধরপাকড়। অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন শহরে পুলিশের অভিযান চলছে। মিলানে নিরাপত্তা জোরদারে মোতায়েন করা হয়েছে ৫০০ সেনা। অন্যদিকে, আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তরুণদের গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ‎ ‎গত শনিবার মিলানের রাজপথে বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা জোরদার করে কর্তৃপক্ষ। সম্ভাব্য ভাঙচুর ও লুটপাট ঠেকাতে বিলাসবহুল বিপণিবিতান ও দোকানগুলোর সামনে কাঠের বেড়া দেওয়া হয়। গত সপ্তাহের সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে আট শহরে বিক্ষোভের ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। ‎ ‎‘অক্টোবর ১৭ মুভমেন্ট’ নামের একটি নবগঠিত সংগঠনের অনলাইন ঘোষণার মধ্য দিয়ে আন্দোলনটি গতি পায়। ছাত্র ফেডারেশন, তৃণমূল শ্রমিক ইউনিয়ন ও যুদ্ধবিরোধী জোটগুলোর পাশাপাশি সংগঠনটি বিক্ষোভ সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারের সমালোচনা করে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি দাবি করেছে, মানুষের ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়া নীতিই প্রকৃত সহিংসতার উৎস। বর্তমান সরকারকে তারা অবিশ্বাস করে এবং সরকারের বিরুদ্ধে কর্তৃত্ববাদী আচরণের অভিযোগ তুলেছে। ‎ ‎গত সপ্তাহের দাঙ্গা ও লুটপাটের পর কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইতালি সরকার। বার্তা সংস্থা আদনক্রোনোসের তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শুক্রবার বিভিন্ন শহরে অভিযান চালায় পুলিশ। শনিবার সকালে লম্বার্ডি অঞ্চলের প্রায় ১৫০টি স্থানে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ‎ ‎এদিকে, বিক্ষোভের আয়োজকেরা বলছেন, আন্দোলনে অংশ নিতে আগ্রহীদের বড় একটি অংশ শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করতে চান। ‘অক্টোবর ১৭ মুভমেন্ট’-এর টেলিগ্রাম চ্যানেলে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির এক সদস্য ‘ই’ বলেন, আন্দোলনকারীদের শান্ত থাকতে হবে; কারণ সামান্য সুযোগ পেলেই পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। ‎ ‎আল জাজিরাকে পুলিশ জানিয়েছে, সংগঠনটির ইনস্টাগ্রাম পেজের প্রশাসককে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইতালির দৈনিক ‘করিয়েরে দেল্লা সেরা’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই প্রশাসক ৩০ বছর বয়সী ইতালি-মরোক্কান বংশোদ্ভূত একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও গবেষক। অপরাধে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ‎ ‎গত রোববারের বিক্ষোভে গ্রেপ্তার হওয়া ২৭১ জনের মধ্যে প্রায় ২২০ জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে বলে জানিয়েছে ‘করিয়েরে দেল্লা সেরা’। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিকটক ও টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আহ্বানে প্রভাবিত হয়ে অনেক কিশোর বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিল। এক অভিযুক্তের আইনজীবীর ভাষ্য, অনেক তরুণ আন্দোলনের মূল কারণ না বুঝেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আকর্ষণে সেখানে হাজির হয়েছিল। ‎ ‎সরকারি কৌঁসুলিরা অভিযোগ করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিভ্রান্ত করে বিদ্রোহাত্মক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারের নীতির বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভই বিক্ষোভের মূল কারণ। ফলে একদিকে নিরাপত্তা অভিযান, অন্যদিকে নতুন কর্মসূচির প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে ইতালিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ‎

ইতালিতে ফের বিক্ষোভের ডাক, তরুণদের ওপর ধরপাকড়