প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬
জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে ফ্রান্সে ফের গণবিক্ষোভ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষাব্যবস্থার অবনতির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে ফের উত্তাল রাজপথ। লাখো মানুষের শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা সন্ধ্যার পর রূপ নেয় সংঘর্ষে। রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ভাঙচুর ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে দেশজুড়ে প্রায় এক হাজার মানুষকে আটক বা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শনিবারের এ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের বিক্ষোভে দেশজুড়ে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন। এর মধ্যে শুধু প্যারিসেই ছিলেন প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার। তবে দেশটির প্রভাবশালী শ্রমিক ইউনিয়ন কনফেডারেশন জেনারেল দ্যু ট্রাভাই (সিজিটি) দাবি করেছে, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের প্রায় দ্বিগুণ।
প্যারিসের পোর্ট ডি'ইতালি থেকে শুরু হওয়া পদযাত্রা বিকেলে পোর্ট দে ভিনসেনে পৌঁছায়। দিনের বেশির ভাগ সময় কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শহরের কেন্দ্রস্থল বাস্টিল ও ন্যাশন চত্বরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করে পদযাত্রার রুট শহরের প্রান্তে সীমাবদ্ধ রাখায় ক্ষুব্ধ হন আন্দোলনকারীরা। পুলিশের ব্যারিকেড ও রুট পরিবর্তনের নির্দেশকে কেন্দ্র করে বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে কালো পোশাকধারী কয়েকজন উগ্র বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও আতশবাজি নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। প্যারিস পুলিশের দাবি, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া প্রায় ৫০০ জন কট্টরপন্থী ও দাঙ্গাবাজ ব্যক্তি পুলিশকে আক্রমণ এবং ভাঙচুরের চেষ্টা করেন।
তবে আগের সপ্তাহের তুলনায় এবার সহিংসতার মাত্রা কম ছিল। কোনো সরকারি ভবন বা থানায় সরাসরি হামলার খবর পাওয়া যায়নি। সম্ভাব্য নাশকতা এড়াতে লুভর ও ওরসে জাদুঘরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বন্ধ রাখা হয়। বন্ধ রাখা হয় ২৪টিরও বেশি মেট্রো স্টেশন। পাশাপাশি দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ত নুনেজ জানান, দেশের অধিকাংশ এলাকায় বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কিছু স্থানে উগ্র বামপন্থী ও মুখোশধারী তরুণেরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। মধ্যরাত পর্যন্ত সতর্ক অবস্থানে ছিল নিরাপত্তা বাহিনী।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও জনসেবার মান নিয়ে ফরাসি জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে এ আন্দোলনকে। একই সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার অবনতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অসন্তোষ বিক্ষোভে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও মূল্যস্ফীতি ও ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে, যা সরকারগুলোর জন্য নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক- রবিউল ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৬ Sokaler Bangladesh । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত