প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬
সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের চার ওয়্যারহাউস সিলগালা
সকালের বাংলাদেশ ||
অনুমোদিত সীমার বাইরে গোপন গুদামে শুল্কমুক্ত মদ মজুত রাখার অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের মালিকানাধীন ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’-এর চারটি ওয়্যারহাউস সিলগালা করেছে যৌথ তদন্ত দল।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) গভীর রাতে রাজধানীর দক্ষিণ গুলশানে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১ (এসআরবি-১)-এর যৌথ অভিযানে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে ডিপ্লোমেটিক ওয়্যারহাউসটির কার্যক্রমে গুরুতর অসংগতি শনাক্ত করা হয়েছে।এনবিআর জানায়, প্রতিষ্ঠানটির নথিভুক্ত ও ঘোষিত অনুমোদিত ওয়্যারহাউসের সংখ্যা ছিল দুটি। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অনুমোদনের বাইরে আরও দুটি গুদামসহ মোট চারটি ওয়্যারহাউসে পণ্য মজুত করা হয়েছে।বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত পণ্য অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া বা খোলাবাজারে বিক্রির আশঙ্কা রোধ এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে দুটি বৈধসহ চারটি ওয়্যারহাউসই তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।গোয়েন্দা সূত্র জানায়, টস বন্ড বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকদের জন্য শুল্কমুক্ত অ্যালকোহল সরবরাহের লাইসেন্সপ্রাপ্ত একটি প্রতিষ্ঠান। তবে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শুল্কমুক্ত মদ খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ খতিয়ে দেখছিল এনবিআর।এর পাশাপাশি এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট নুর ইসলাম ও তার পরিবারের আর্থিক লেনদেনের তথ্যও সংগ্রহ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, নুর ইসলাম, তার স্ত্রী শীলা ইসলাম ও মেয়ে তাসনিম ইসলামের কানাডার নাগরিকত্ব এবং সেখানে অন্তত চারটি কোম্পানির মালিকানার তথ্য পাওয়া গেছে, যা দেশের কর নথিতে গোপন রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তাদের ১৬৩টি আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এক বছরে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা রেমিট্যান্স আনার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অবশ্য দাবি করেছেন, বৃহস্পতিবারের অভিযানটি সালমান মুক্তাদিরকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। তাদের ভাষ্য, নুর ইসলামের ব্যবসা ও করসংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা আগে থেকেই অনুসন্ধান চালিয়ে আসছিল।তবে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে দক্ষিণ মানিকদীর নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পে হামলার পর সালমান মুক্তাদির লাইভে এসে রাজনৈতিক মহলের চাঁদাবাজিকে দায়ী করা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মন্তব্য করার পর পরিবারের বিষয়ে নজরদারি ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার গতি কিছুটা বেড়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।উল্লেখ্য, নিউ গিনি প্রোপার্টিজ এলাকায় হামলার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়ার করা জমি দখল ও পূর্বশত্রুতার মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ সাতজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।এর মধ্যে গত বুধবার সালমান মুক্তাদিরের ব্যক্তিগত সব ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এর পরদিনই তার শ্বশুরের প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের বাইরে থাকা ওয়্যারহাউসে যৌথ তদন্ত দলের অভিযান ও চারটি গুদাম সিলগালার ঘটনা ঘটল।
সম্পাদক ও প্রকাশক- রবিউল ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৬ Sokaler Bangladesh । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত